Entrar
🚀 Participe do nosso Desafio do Ramadã!
Saber mais
🚀 Participe do nosso Desafio do Ramadã!
Saber mais
Entrar
Entrar
Selecione o idioma
74:29
لواحة للبشر ٢٩
لَوَّاحَةٌۭ لِّلْبَشَرِ ٢٩
لَوَّاحَةٞ
لِّلۡبَشَرِ
٢٩
Carbonizador do humanos,
Tafsirs
Camadas
Lições
Reflexões
Respostas
Qiraat
Hadith
Você está lendo um tafsir para o grupo de versos 74:11 a 74:30

১১-৩০ নং আয়াতের তাফসীর যে কলুষিত ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করেছে এবং পবিত্র কুরআনকে মানুষের কথা বলে আখ্যায়িত করেছে, এখানে তার শাস্তির বর্ণনা হচ্ছে। যে নিয়ামতরাশি তাকে দেয়া হয়েছে, প্রথমে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, সে একাকী মায়ের পেট হতে বের হয়েছে। তার না ছিল কোন মাল-ধন ও না ছিল কোন সন্তান সন্ততি। সঙ্গে তার কিছুই ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে মালদার বানিয়েছেন। তাকে প্রচুর মাল দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেন যে, হাজার দীনার বা স্বর্ণ মুদ্রা, কারো কারো মতে লক্ষ দীনার, আবার কেউ কেউ বলেন যে, জমি-জমা ইত্যাদি দান করেছেন। সন্তান দান করার ব্যাপারে কেউ কেউ বলেন যে, তেরোটি সন্তান এবং অন্য কেউ বলেন যে, দশটি সন্তান দান করেছেন, যারা সবাই তার পাশে বসে থাকতো। চাকর-বাকর, দাস-দাসী তার জন্যে কাজ-কর্ম করতো এবং সে মজা করে সন্তান-সন্ততি নিয়ে জীবন যাপন করতো। মোট কথা, তার ধন-দৌলত, দাস-দাসী এবং আরাম-আয়েশ সব কিছুই বিদ্যমান ছিল। তবুও প্রবৃত্তির চাহিদা পূর্ণ হতো না। সে আরো বেশী কামনা করতো। মহান আল্লাহ বলেনঃ এখন কিন্তু আর এরূপ হবে না। সে তো আমার নিদর্শন সমূহের উদ্ধত বিরুদ্ধাচারী। অর্থাৎ সে জ্ঞান লাভের পরেও আমার নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আমি অচিরেই তাকে ক্রমবর্ধমান শাস্তি দ্বারা আচ্ছন্ন করবো।মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “অয়েল’ হলো জাহান্নামের একটা উপত্যকার নাম, যার মধ্যে কাফিরকে নিক্ষেপ করা হবে। চল্লিশ বছর পর্যন্ত সে নীচের দিকে যেতেই হবে তবুও ওর তলদেশে পৌছতে পারবে না। আর ‘সাউদ’ হলো জাহান্নামের একটি অগ্নি পাহাড়ের নাম যার উপর কাফিরকে চড়ানো হবে। সত্তর বছর পর্যন্ত সে উপরে উঠতেই থাকবে। তারপর সেখান থেকে নীচে ফেলে দেয়া হবে। সত্তর বছর পর্যন্ত নীচের দিকে গড়িয়ে পড়তেই থাকবে এবং চিরস্থায়ীভাবে সে এই শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।” (এ হাদীসটি জামে তিরমিযীতেও রয়েছে এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে গারীব বা দুর্বল বলেছেন। সাথে সাথে এতে অস্বীকৃতিও রয়েছে)মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “সাঊদ হলো জাহান্নামের একটি আগুনের পাহাড়ের নাম। জাহান্নামীকে এর উপর চড়তে বাধ্য করা হবে। তাতে হাত রাখা মাত্রই তা গলে যাবে এবং উঠানো মাত্রই স্বাভাবিক হাত হয়ে যাবে। পায়ের অবস্থাও তাই হবে।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, সাউদ হলো জাহান্নামের এক কংকরময় ভূমির নাম, যার উপর দিয়ে কাফিরকে মুখের ভরে টেনে আনা হবে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, সাউদ হলো জাহান্নামের এক শক্ত পিচ্ছিল পাথর যার উপর জাহান্নামীকে উঠানো হবে। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, আয়াতের ভাবার্থ হলোঃ আমি তাকে কষ্টদায়ক শাস্তি প্রদান করবো। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এমন শাস্তি যা হতে কখনো শান্তি লাভ করা যাবে না। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এটাকেই পছন্দ করেছেন।এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি তাকে এই কষ্ট ও শাস্তির নিকটবর্তী এ জন্যেই করেছি যে, সে ঈমান হতে বহু দূরে ছিল এবং চিন্তা-ভাবনা করে এটা গড়ে নিচ্ছিল যে, কুরআন কারীম সম্পর্কে সে একটা মন্তব্য করবে!অতঃপর তার উপর দুঃখ প্রকাশ করে বলা হচ্ছেঃ অভিশপ্ত হোক সে! কেমন করে সে এই সিদ্ধান্ত করলো! আরবদের পরিভাষা অনুযায়ী তার ধ্বংসের শব্দ উচ্চারণ করা হচ্ছে যে, সে ধ্বংস হোক! সে কতই না জঘন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে! সে কতই না নির্লজ্জতাপূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছে! বারবার চিন্তা-ভাবনা করার পর ভ্রূকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে। অতঃপর সে পিছন ফিরেছে ও দম্ভ প্রকাশ করেছে। তারপর ঘোষণা করেছে যে, এই কুরআন আল্লাহর কালাম নয়, বরং মুহাম্মাদ (সঃ) তার পূর্ববর্তী লোকদের যাদুমন্ত্র বর্ণনা করছে এবং ওটাই মানুষকে শুনাচ্ছে। সে বলছেঃ এটা তো তোক পরম্পরায় প্রাপ্ত যাদু ভিন্ন আর কিছুই নয়। এটা তো মানুষেরই কথা।ঐ অভিশপ্ত ব্যক্তির নাম হলো ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা মাখযুমী, যে কুরায়েশদের নেতা ছিল। হযরত আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ঘটনাটি হলোঃ একদা এই অপবিত্র ওয়ালীদ হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে আসলো এবং তাঁর নিকট হতে কুরআন কারীমের কিছু অংশ শোনার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। হযরত আবূ বকর (রাঃ) তখন তাকে কুরআনের কয়েকটি আয়াত পাঠ করে শুনালেন। এতে সে মুগ্ধ হয়ে গেল। এখান থেকে বের হয়ে সে কুরায়েশদের সমাবেশে গিয়ে হাযির হলো এবং বলতে লাগলোঃ “হে জনমন্ডলী! বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) যে কুরআন পাঠ করে থাকেন, আল্লাহর কসম! ওটা কবিতাও নয়, যাদু-মন্ত্রও নয় এবং পাগলের কথাও নয়। বরং খাস আল্লাহর কথা! এতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই।” কুরায়েশরা তার একথা শুনে নিজেদের মাথা ধরে নেয় এবং বলেঃ “এ যদি মুসলমান হয়ে যায় তবে কুরায়েশদের একজনও মুসলমান হতে বাকী থাকবে না।” আবূ জেহেল খবর পেয়ে বললোঃ “তোমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ো না। দেখো, আমি কৌশলে তাকে ইসলাম হতে বিমুখ করে দিচ্ছি।” একথা বলে সে মাথায় এক বুদ্ধি এঁটে নিয়ে ওয়ালীদের বাড়ীতে গেল এবং তাকে বললোঃ “আপনার কওম আপনার জন্যে চাঁদা ধরে বহু অর্থ জমা করেছে এবং ওগুলো তারা আপনাকে দান করতে চায়।” এ কথা শুনে ওয়ালীদ বললোঃ “বাঃ! কি মজার ব্যাপার? আমার তাদের চাঁদা ও দানের কি প্রয়োজন? দুনিয়ার সবাই জানে যে, আমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধনী। আমার সন্তান-সন্ততিও বহু রয়েছে।” আবূ জেহেল বললোঃ “হ্যাঁ, তা ঠিক বটে। কিন্তু লোকদের মধ্যে এই আলোচনা চলছে যে, আপনি যে আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে যাতায়াত করছেন তা শুধু কিছু লাভের আশায়।” এ কথা শুনে ওয়ালীদ বললোঃ “আমার বংশের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে যে এসব গুজব রটেছে তা তো আমার মোটেই জানা ছিল না? আচ্ছা, এখন আমি কসম খেয়ে বলছি যে, আর কখনো আমি আবূ বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) এবং মুহাম্মাদ (সঃ)-এর কাছে যাবো না। মুহাম্মাদ (সঃ) যা কিছু বলে তা তো লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত যাদু ভিন্ন আর কিছুই নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূল (সঃ)-এর উপর (আরবি) পর্যন্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন।হযরত কাতাদাহ্ (রঃ) বলেন যে, ওয়ালীদ কুরআন কারীম সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলঃ “কুরআনের ব্যাপারে বহু চিন্তা-ভাবনার পর এই ফলাফলে পৌঁছেছে যে, ওটা কবিতা নয়, ওতে মধুরতা রয়েছে, ঔজ্জ্বল্য রয়েছে। এটা বিজয়ী, বিজিত নয়। তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটা যাদু।” এই পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়।ইকরামা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা নবী (সঃ)-এর নিকট আগমন করে। নবী (সঃ) তাকে কুরআন পাঠ করে শুনান। কুরআন শুনে তার অন্তর নরম হয়ে যায় এবং পুরোপুরি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। আবূ জেহেল এ খবর পেয়ে বড় ঘাবড়ে যায় এবং ভয় করে যে, না জানি হয়তো সে মুসলমান হয়েই যাবে। তাই, সে তাড়াতাড়ি তার কাছে এসে পড়ে এবং একটা মিথ্যা কথা বানিয়ে নিয়ে তাকে বলেঃ “আপনার কওম আপনার জন্যে মাল জমা করতে চায়।” সে জিজ্ঞেস করেঃ “কেন?” সে উত্তরে বলেঃ “আপনাকে দেয়ার জন্যে। উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নিকট আপনার যাতায়াত বন্ধ করা। কেননা, আপনি সেখানে শুধু মাল লাভ করার উদ্দেশ্যেই গমন করে থাকেন।” এ কথা শুনে ওয়ালীদ ক্রোধে ফেটে পড়ে এবং বলেঃ “আমার কওমের মধ্যে আমি যে সবচেয়ে বড় মালদার এটা কি তারা জানে না?” আবূ জেহেল উত্তর দিলোঃ “হ্যাঁ, জানে বটে। কিন্তু এখন তো মানুষের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনি শুধু মাল লাভের আশাতেই তাঁর হয়ে গেছেন। আপনি যদি এই বিশ্বাস মানুষের অন্তর হতে মুছে ফেলতে চান তাহলে আপনি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর ব্যাপারে একটি কঠোর উক্তি করুন। যাতে লোক বুঝতে পারে যে, আপনি তার সম্পূর্ণ বিরোধী এবং আপনি তার কথাকে মোটেই পছন্দ করেন না।” সে বললোঃ “আমি তার ব্যাপারে কি বলবো? প্রকৃত ব্যাপার তো এই যে, সে যে কুরআন আমাকে শুনিয়েছে, আল্লাহর কসম! ওটা কবিতা নয়, কাসীদা নয়, ছন্দ নয় এবং জ্বিনের কথাও নয়। তোমাদের তো খুব ভাল জানা আছে যে, দানব ও মানবের কথা আমার খুবই ভাল স্মরণ আছে এবং আমি একজন খ্যাতনামা কবিও বটে। ভাষার ভালমন্দ গুণ সম্বন্ধে আমার যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ (সঃ)-এর কালাম এগুলোর কোনটিই নয়। তাঁর কালামের মধ্যে এমন মধুরতা ও লালিত্য রয়েছে যে, ওটা সমস্ত কালামের নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। তার কালামের মধ্যে বড়ই আকর্ষণ রয়েছে। সুতরাং তুমিই বল, আমি তাঁর কালামের বিরুদ্ধে কি বলতে পারি?” আবূ জেহেল তখন বললোঃ “দেখুন, আপনি এর বিরুদ্ধে কিছু একটা না বলা পর্যন্ত আপনার সম্পর্কে আপনার কওমের মনে যে বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়ে গেছে তা দূর হতে পারে না। সে তখন বললোঃ “আচ্ছা, তাহলে আমাকে কিছু অবকাশ দাও, আমি চিন্তা করে এর সম্পর্কে কিছু একটা উক্তি করবো।” সুতরাং সে চিন্তা-ভাবনা করে নিজের নেতৃত্ব বজায় রাখার খাতিরে শেষে বলে ফেললোঃ “এটা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত যাদু ভিন্ন আর কিছুই নয়।” তখন (আরবি) পর্যন্ত আয়াতগুলো নাযিল হয়। (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, দারুন নুদওয়াতে বসে কাফিররা পরামর্শ করলো যে, হজের মৌসুমে জনগণ চতুর্দিক থেকে আসবে। সুতরাং এই লোকটি (হযরত মুহাম্মাদ সঃ) সম্বন্ধে কি উক্তি করা যেতে পারে? তার সম্পর্কে এমন একটা উক্তি করা যাক যা সবাই এক বাক্যে বলবে, যাতে তা আরবে এবং আরো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন কেউ কবি বললো, কেউ বললো যাদুকর, কেউ বললো গণক, কেউ জ্যোতির্বিদ বললো এবং কেউ পাগল বললো। ওয়ালীদ বসে বসে চিন্তা করছিল। বহুক্ষণ চিন্তা করার পর সে বড় রকমের ভঙ্গিমা করে বললোঃ “দেখো, এ লোকটির কথা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত যাদু ভিন্ন কিছুই নয়। এটা তো মানুষেরই কথা।” আল্লাহ্ পাক অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ দেখো, তারা তোমার কি উপমা দেয়, তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা পথ পাবে না।” (১৭:৪৮)। এরপর আল্লাহ্ তার শাস্তির বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলেনঃ আমি তাকে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে ডুবিয়ে দিবো যা অত্যন্ত ভয়াবহ শাস্তির আগুন।যা গোশত, অস্থি, চর্ম সবই খেয়ে ফেলবে। আবার এগুলোকে জোড়া লাগিয়ে দেয়া হবে এবং পুনরায় জ্বালিয়ে দেয়া হবে। সুতরাং এ শাস্তি না তাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখবে, না মৃত অবস্থায় ছেড়ে দিবে। এই জাহান্নামের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ঊনিশ জন প্রহরী। তারা হবে অত্যন্ত কঠোর হৃদয়। তাদের অন্তরে দয়ার লেশমাত্র থাকবে না। হযরত বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি (আরবি) আল্লাহ্ পাকের এই উক্তি সম্পর্কে বলেন যে, ইয়াহূদীদের একটি দল রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর সাহাবী (রাঃ)-এর একজন লোককে জাহান্নামের রক্ষকদের সংখ্যা জিজ্ঞেস করে। তিনি উত্তরে বলেনঃ “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-ই এ সম্পর্কে ভাল জানেন।” তখন একজন লোক এসে নবী (সঃ)-কে এ খবর দেন। ঐ সময় আল্লাহ তা'আলা (আরবি)-এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) সাহাবীদেরকে এ খবর দিয়ে দেন এবং তাদেরকে বলেনঃ “তোমরা তাদেরকে (ইয়াহূদীদেরকে) আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করবো যে, জান্নাতের মাটি কেমন? আর তোমরা জেনে রেখো যে, জান্নাতের মাটি হলো সাদা ময়দার মত।” তারপর ইয়াহুদীরা তাঁর কাছে আসলো এবং তাঁকে জাহান্নামের রক্ষকদের সংখ্যা জিজ্ঞেস করলো। তিনি স্বীয় হস্তদ্বয়ের অঙ্গুলিগুলো দু’বার উত্তোলন করলেন এবং দ্বিতীয়বার এক হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ রাখলেন (অর্থাৎ অঙ্গুলির ইশারায় তিনি তাদেরকে জানালেন যে, তাঁরা সংখ্যায় উনিশ জন)। অতঃপর তিনি ঐ ইয়াহুদীদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ “জান্নাতের মাটি কেমন?” তারা তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললোঃ “হে ইবনে সালাম (রাঃ)! আপনিই এঁদেরকে এ খবরটি দিয়ে দিন!” তখন হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম (রাঃ) বললেনঃ “যেন ওটা সাদা রুটী।” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তখন বললেনঃ “জেনে রেখো যে, ওটা ঐ সাদা রুটীর মত যা নির্ভেজাল ময়দা দ্বারা তৈরী।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবী হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক নবী (সঃ)-এর কাছে এসে বললোঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! আজ তো আপনার সাহাবীগণ হেরে গেছে?” তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “কি ভাবে।” সে উত্তর দিলোঃ “ইয়াহূদীরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিল যে, তাদের নবী কি তাদেরকে জাহান্নামের রক্ষকদের সংখ্যা জানিয়ে দিয়েছেন? উত্তরে তারা বলেছে যে, তারা তাদের নবীকে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত এর উত্তর দানে অক্ষম।” এ কথা শুনে নবী (সঃ) বললেনঃ “এমন কওমকে কি করে পরাজিত বলা যেতে পারে যাদেরকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় যা তাদের জানা নেই। তখন তারা বলে যে, তারা ঐ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না যে পর্যন্ত না তারা তাদের নবীকে জিজ্ঞেস করে? আল্লাহ্‌ ঐ দুশমনদেরকে আমার কাছে নিয়ে এসো যারা তাদের নবীর কাছে আবেদন করেছিল যে, তিনি যেন তাদের প্রতিপালককে প্রকাশ্যভাবে তাদেরকে দেখিয়ে দেন। তখন তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আপতিত হয়।” অতঃপর ঐ ইয়াহূদীদেরকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে ডেকে আনা হলে তারা বললোঃ “হে আবূল কাসিম (সঃ)! জাহান্নামের রক্ষকদের সংখ্যা কত?” উত্তরে নবী (সঃ) তাঁর হস্তদ্বয়ের অঙ্গুলিগুলো খুলে দিয়ে দু’বার দেখান এবং দ্বিতীয় বারে এক হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ রাখেন অর্থাৎ অঙ্গুলির ইশারায় তিনি জানান যে, জাহান্নামের রক্ষীরা হলেন সংখ্যায় ঊনিশ জন। আর তিনি স্বীয় সাহাবীদেরকে বললেনঃ “তোমাদেরকে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তোমরা বলবে যে, ওটা সাদা ময়দার মত।” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) ইয়াহূদীদের প্রশ্নের উত্তরে জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা বলে দেয়ার পর তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ “বলতো, জান্নাতের মাটি কেমন?” তখন তারা একে অপরের দিকে তাকালো এবং শেষে বললোঃ “হে আবূল কাসিম (সঃ)! ওটা রুটির মত।” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বললেনঃ “সাদা ময়দার রুটির মত।” (এ হাদীসটি হাফিয আবূ বকর আল বাযযার (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এটা জামে তিরমিযী এবং মুসনাদে আহমাদেও বর্ণিত হয়েছে)

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Leia, ouça, pesquise e reflita sobre o Quran

Quran.com é uma plataforma confiável usada por milhões de pessoas em todo o mundo para ler, pesquisar, ouvir e refletir sobre o Alcorão em vários idiomas. Ela oferece traduções, tafsir, recitações, tradução palavra por palavra e ferramentas para um estudo mais aprofundado, tornando o Alcorão acessível a todos.

Como uma Sadaqah Jariyah, o Quran.com se dedica a ajudar as pessoas a se conectarem profundamente com o Alcorão. Apoiado pela Quran.Foundation , uma organização sem fins lucrativos 501(c)(3), o Quran.com continua a crescer como um recurso gratuito e valioso para todos, Alhamdulillah.

Navegar
Casa
Rádio Quran
Recitadores
Sobre nós
Desenvolvedores
Atualizações de produtos
Comentários
Ajuda
Nossos Projetos
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Projetos sem fins lucrativos de propriedade, administrados ou patrocinados pela Quran.Foundation
Links populares

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

Mapa do sitePrivacidadeTermos e Condições
© 2026 Quran.com. Todos os direitos reservados