تسجيل الدخول
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
تسجيل الدخول
تسجيل الدخول
اختر اللغة
٢٦:٢
۞ ان الله لا يستحيي ان يضرب مثلا ما بعوضة فما فوقها فاما الذين امنوا فيعلمون انه الحق من ربهم واما الذين كفروا فيقولون ماذا اراد الله بهاذا مثلا يضل به كثيرا ويهدي به كثيرا وما يضل به الا الفاسقين ٢٦
۞ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَسْتَحْىِۦٓ أَن يَضْرِبَ مَثَلًۭا مَّا بَعُوضَةًۭ فَمَا فَوْقَهَا ۚ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَيَقُولُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَـٰذَا مَثَلًۭا ۘ يُضِلُّ بِهِۦ كَثِيرًۭا وَيَهْدِى بِهِۦ كَثِيرًۭا ۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِۦٓ إِلَّا ٱلْفَـٰسِقِينَ ٢٦
۞ إِنَّ
ٱللَّهَ
لَا
يَسۡتَحۡيِۦٓ
أَن
يَضۡرِبَ
مَثَلٗا
مَّا
بَعُوضَةٗ
فَمَا
فَوۡقَهَاۚ
فَأَمَّا
ٱلَّذِينَ
ءَامَنُواْ
فَيَعۡلَمُونَ
أَنَّهُ
ٱلۡحَقُّ
مِن
رَّبِّهِمۡۖ
وَأَمَّا
ٱلَّذِينَ
كَفَرُواْ
فَيَقُولُونَ
مَاذَآ
أَرَادَ
ٱللَّهُ
بِهَٰذَا
مَثَلٗاۘ
يُضِلُّ
بِهِۦ
كَثِيرٗا
وَيَهۡدِي
بِهِۦ
كَثِيرٗاۚ
وَمَا
يُضِلُّ
بِهِۦٓ
إِلَّا
ٱلۡفَٰسِقِينَ
٢٦
تفاسير
الطبقات
فوائد
تدبرات
الإجابات
قراءات
الحديث
أنت تقرأ تفسيرًا لمجموعة الآيات 2:26إلى 2:27

২৬-২৭ নং আয়াতের তাফসীরহযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) এবং অন্য কয়েকজন সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন উপরের তিনটি আয়াতে মুনাফিকদের দুটি দৃষ্টান্ত বর্ণিত হলো অর্থাৎ আগুন ও পানি, তখন তারা বলতে লাগলো যে, এরকম ছোট ছোট দৃষ্টান্ত আল্লাহ তা'আলা কখনও বর্ণনা করেন। তার প্রতিবাদে আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত দুটি অবতীর্ণ করেন। হযরত কাতাদাহ (রাঃ) বলেন যে, যখন কুরআন পাকের মধ্যে মাকড়সা ও মাছির দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয় তখন মুশষিকরা বলতে থাকে যে, কুরআনের মত আল্লাহর কিতাবে এরকম নিকৃষ্ট প্রাণীর বর্ণনা দেয়ার কি প্রয়োজন। তাদের একথার উত্তরে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয় এবং বলা হয় যে, সত্যের বর্ণনা দিতে আল্লাহ আদৌ লজ্জাবোধ করেন না, তা কমই হোক বা বেশীই হোক। কিন্তু এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, এই আয়াতগুলো বুঝি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, অথচ তা নয়। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে বেশী জানেন। এগুলো অবতীর্ণ হওয়ার কারণ অন্যান্য গুরুজন হতেও এরকমই বর্ণিত হয়েছে।হযরত রাবী বিন আনাস (রাঃ) বলেন যে, এটা একটা মজবুত দৃষ্টান্ত যা দুনিয়ার দৃষ্টান্তরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। মশা ক্ষুধার্ত থাকা পর্যন্ত জীবিত থাকে এবং মোটা তাজা হলেই মারা যায়। এ রকমই এ লোকেরাও যখন ইহলৌকিক সুখ সম্ভোগ প্রাণভরে ভোগ করে তখনই আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে পাকড়াও করেন। যেমন আল্লাহ পাক এক জায়গায় বলেনঃ “যখন এরা আমার উপদেশ ভুলে যায়, তখন আমি তাদের জন্যে সমস্ত জিনিসের, দরজা খুলে দেই, শেষ পর্যন্ত তারা গর্বভরে চলতে থাকে, এমন সময় হঠাৎ আমি তাদেরকে পাকড়াও করি।” ইবনে জারীর (রঃ) এবং ইবনে আবি হাতিয় (রঃ) এইরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) প্রথম মতটি পছন্দ করেছেন এবং সম্বন্ধও এরই বেশী ভাল মনে হচ্ছে। তাহলে ভাবার্থ হলো এই যে, ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম এবং বৃহৎ হতে বৃহত্তম কোন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করতে আল্লাহ পাক লজ্জা ও সংকোচ বোধ করেন না (আরবি) শব্দটি এখানে নিম্নমানের অর্থ বুঝাবার জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে (আরবি) শব্দটি (আরবি) হওয়ায় ওকে (আরবি) দেয়া হয়েছে। কিংবা (আরবি) শব্দটি (আরবি) এবং (আরবি) –এর (আরবি) হয়েছে। ইবনে জারীর (রঃ) (আরবি) শব্দটির (আরবি) হওয়া এবং (আরবি) শব্দটির ওর (আরবি) দ্বারা (আরবি) হওয়াকে পছন্দ করেছেন এবং আরবদের কালামেও এটা খুব বেশী প্রচলিত আছে। তারা (আরবি) ও (আরবি)-এর কে এ দু'টোরই (আরবি) দিয়ে থাকে। এজন্যই এটা কখনও (আরবি) হয় এবং (আরবি) কখনও হয়। যেমন হযরত হাসসান বিন সাবিতের (রাঃ) কবিতায় রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “অন্যদের উপর আমাদের শুধু এটুকুই মর্যাদা যথেষ্ট যে, আমাদের অন্তর আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সঃ)-এর প্রেমে পরিপূর্ণ।” লুপ্ত (আরবী)-এর ভিত্তিতেও (আরবী) শব্দটি (আরবী) হতে পারে এবং ওর পূর্বে (আরবী) শব্দটি উহ্য মেনে নেয়া হবে। কাসাঈ (রঃ) এবং কারা (রঃ) এটাকেই পছন্দ করেছেন। যোক (রঃ) ও ইবরাহীম বিন আবলাহ (রঃ) (আরবি) পড়ে থাকেন। ইবনে জনী (রঃ) বলেন যে, এটা (আরবি) এর (আরবি) হবে এবং (আরবি) শব্দটিকে লুপ্ত মেনে নেয়া হবে। যেমন, (আরবি) অর্থ (আরবি) একটি তো হলো এই যে, ওর চেয়েও হালকা ও খারাপ জিনিস। যেমন কেউ কোন লোকের কৃপণতা ইত্যাদির কথা বর্ণনা করলে অন্যজন বলে যে, সে আরও উপরে। তখন ভাবার্থ এই হয় যে, এই দোষে সে আরও নীচে নেমে গেছে। কাসাঈ এবং আবূ আবীদ এটাই বলে থাকেন। একটি হাদীসে আছে যে, যদি দুনিয়ার কদর আল্লাহর কাছে একটি মশার ডানার সমানও হতো তবে কোন কাফিরকে এক ঢাকে পানিও দেয়া হতো না। দ্বিতীয় অর্থ এই যে,ওর চেয়ে বেশী বড়। কেননা, মশার চেয়ে ছোট প্রাণী আর কি হতে পারে? কাতাদাহ বিন দাআমার এটাই মত ইমাম ইবনে জারীরও (রঃ) এটাই পছন্দ করেন। সহীহ মুসলিম শরীফে আছে যে, যদি কোন মুসলমানকে কাঁটা লাগে বা এর চেয়েও বেশী তবে তার জন্যেও তার মর্যাদা বেড়ে যায় এবং পাপ মোচন হয়। এ হাদীসেও (আরবি) শব্দটি আছে। তাহলে ভাবার্থ হচ্ছে এই যে, যেমন এ ছোট বড় জিনিসগুলো সৃষ্টি করতে আল্লাহ তা'আলা লজ্জাবোধ করেন না, তেমনই ওগুলোকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ বর্ণনা করতেও তার কোন দ্বিধা ও সংকোচ নেই। কুরআন কারীমের মধ্যে আল্লাহ পাক এক জায়গায় বলেছেনঃ হে লোক সকল! একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হচ্ছে, তোমরা কান লাগিয়ে শোননা আল্লাহকে ছেড়ে যাকে তোমরা ডাকছে, তারা যদি সবাই একত্রিত হয় তবুও একটি মাছিও তারা সষ্টি করতে পারবে না বরং মাছি যদি একত্রিত হয় তবুও একটি মাছিও তারা তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয় তবে এরা ওর কাছ থেকে তা ফিরিয়ে আনতে পারবে না। উপাসক ও উপাস্য উভয়েই খুবই দুর্বল।" অন্য স্থানে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ “আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদেরকে যারা তাদের মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার জালের ন্যায়, যার ঘর সমূদয় ঘর হতে নরম ও দুর্বল। অন্যত্র তিনি বলেছেনঃ “আল্লাহর তা'আলা কালিমায়ে তাইয়্যেবার কেমন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, এটা একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায় যার শিকড়গুলো খুবই শক্ত এবং ওর শাখাগুলো উপর দিকে যাচ্ছে। ওটা আল্লাহর আদেশে প্রত্যেক মৌসুমে ফল দিয়ে থাকে; এবং আল্লাহ দৃষ্টান্তগুলো এ উদ্দেশ্যে বর্ণনা করে থাকেন, যেন তারা খুব বুঝে নেয়। আর অপবিত্র কালেমার দৃষ্টান্ত এইরূপ, যেমন একটি নিকৃষ্ট বৃক্ষ, যা যমীনের উপর থেকে উপড়িয়ে নেয়া যায়, ওর কোন স্থায়িত্ব নেই। আল্লাহ তাআলা ঈমানদার লোকদেরকে সেই অটল বাক্যের দরুন ইহকালে ও পরকালের সুদৃঢ় রাখেন, এবং জালিমদেরকে বিভ্রান্ত করে দেন এবং আল্লাহ যা চান তাই করেন।” অন্যস্থানে আল্লাহ তাআলা সেই ক্রীতদাসের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন যার কোন জিনিসের উপর স্বাধীনতা নেই।” তিনি অন্যত্র বলেছেনঃ “আল্লাহ দুই ব্যক্তির দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে একজন তো বোবা এবং সে কোন কিছুর উপরেই ক্ষমতা রাখে না, সে তার মনিবের উপর বোঝা স্বরূপ, সে যেখানেই যায়, অপকার ছাড়া উপকারের কিছু আনতে পারে না, এবং দ্বিতীয় সেই ব্যক্তি যে ন্যায় ও সত্যের আদেশ করে, এ দুজন কি সমান হতে পারে।” অন্য জায়গায় ইরশাদ হচ্ছেঃ “আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বয়ং তোমাদেরই দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন, তোমরা কি তোমাদের নিজেদের জিনিসে তোমাদের গোলামদেরকে শরীক ও সমান অংশদীর মনে করছো? অন্যত্র বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন যার বহু সমান সমান অংশীদার রয়েছে। অপর জায়গায় আল্লাহ পাক বলেছেনঃ “এই দৃষ্টান্তগুলো আমি আলেমগণের জন্যে বর্ণনা করে থাকি এবং একমাত্র আলেমগণই তা অনুধাবন করতে থাকে। এ ছাড়া আরও বহু দৃষ্টান্ত কুরআন পাকের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।পূর্বযুগের কোন একজন মনীষী বলেছেনঃ “যখন আমি কুরআন মাজীদের কোন দৃষ্টান্ত শুনি এবং বুঝতে পারি না তখন আমার কান্না এসে যায়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যে, এ দৃষ্টান্তগুলো শুধুমাত্র আলেমরাই বুঝে থাকে।” হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, দৃষ্টান্ত ছোটই হোক আর বড়ই হোক, ঈমানদারগণ ওর উপর ঈমান এনে থাকে, ওকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং তা দ্বারা সুপথ পেয়ে থাকে। কাতাদাহ (রঃ) বলেন যে, তারা ওকে আত্মাহুর কালাম মনে করে (আরবি) এর (আরবি) টির (আরবি) হচ্ছে (আরবি) অর্থাৎ মু'মিন এ দৃষ্টান্তকে আল্লাহর পক্ষ হতে সত্য মনে করে, আর কাফিরেরা কথা বানিয়ে থাকে। যেমন সূরা-ই-মুদ্দাসসিরে আছেঃ “এবং দোযখের কর্মচারী আমি শুধু ফেরেস্তাদেরকেই নিযুক্ত করেছি, আর আমি তাদের সংখ্যা শুধু এরূপ রেখেছি যা কাফিরদের বিভ্রান্তির উপকরণ হয়, এজন্যে যে, কিতাবীগণ যেন বিশ্বস্ত হয় এবং ঈমানদারদের ঈমান আরও বর্ধিত হয়, আর কিতাবীগণ ও মুমিনগণ সন্দেহ না করে, আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা এবং কাফিরেরা যেন বলে যে, এ . বিস্ময়কর উপমা দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্য কি এরূপেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করে থাকেন, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করে থাকেন; আর তোমার প্রভুর সৈন্যবাহিনীকে তিনি ছাড়া কেউই জানে না আর এটা শুধু মানুষের উপদেশের জন্যে। এখানেও হিদায়াত ও গুমরাহীর বর্ণনা রয়েছে। সাহাবা-ই-কিরাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা মুনাফিক পথভ্রষ্ট হয় এবং মু'মিন সুপথ প্রাপ্ত হয়। মুনাফিকরা ভ্রান্তির মধ্যে বেড়ে চলে, কেননা এ দৃষ্টান্ত যে সত্য তা জানা সত্ত্বেও তারা একে অবিশ্বাস করে, আর মু'মিন এটা বিশ্বাস করে ঈমান আরও বাড়িয়ে নেয়।(আরবি)-এর ভাবার্থ হচ্ছে মুনাফিক। কেউ কেউ এর অর্থ নিয়েছেন কাফির’-যারা জেনে শুনে অস্বীকার করে। হযরত সা'দ (রাঃ) বলেন যে, এর দ্বারা খারেজীগণকে বুঝান হয়েছে। একথার সনদ যদি হযরত সা’দ (রাঃ) থেকে। হওয়া সঠিক হয়, তবে ভাবার্থ হবে এই যে, এ তাফসীর অর্থের দিক দিয়ে এ নয় যে, এর ভাবার্থ খারেজীরা বরং ঐ দলটিও ফাসিকদের অন্তর্ভুক্ত যারা নাহারওয়ানে’ হযরত আলীর (রাঃ) উপর আক্রমণ চালিয়েছিল। তাহলে এরা যদিও আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার সময় বিদ্যমান ছিল না, তথাপি তাদের জঘন্য দোষের কারণে অর্থের দিক দিয়ে তারাও ফাসিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তারা ন্যায় ও সঠিক ঈমানের আনুগত্য হতে বেরিয়ে গিয়েছিল এবং ইসলামী শরীয়ত হতে সরে পড়েছিল বলে তাদেরকে খারেজী বলা হয়েছে।যে ব্যক্তি আনুগত্য হতে বেরিয়ে যায়, আরবী পরিভাষায় তাকে ফাসিক বলা হয়। ছাল সরিয়ে শীষ বের হলে আরবের (আরবি) বলে থাকে। ইদুর গর্ত থেকে বেরিয়ে ক্ষতি সাধন করতে থাকে বলে ওকেও বলা হয়। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “পাঁচটি প্রাণী ‘ফাসিক। কাবা শরীফের মধ্যে এবং ওর বাইরে এদেরকে হত্যা করে দেয়া হবে। এগুলো হচ্ছেঃ ১। কাক, ২। চিল, ৩। বিচ্ছু, ৪। ইঁদুর এবং ৫। কালো কুকুর। সুতরাং কাফির এবং প্রত্যেক অবাধ্যই ফাসিকের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু কাফির ফাসিক সবচেয়ে কঠিন এবং সবচেয়ে খারাপ। আর এ আয়াতে ফাসিকের ভাবার্থ হচ্ছে কাফির। আল্লাহই সবচেয়ে বেশী জানেন।এর বড় দলীল এই যে, পরে তাদের দোষ বর্ণনা করা হয়েছে তা হচ্ছে আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, তাঁর নির্দেশ অমান্য করা, যমীনে ঝগড়া-বিবাদ করা, আর কাফিরেরাই এসব দোষে জড়িত রয়েছে, মুমিনদের বিশেষণ তো এর সম্পূর্ণ বিরপীত হয়ে থাকে। যেমন সূরা-ই-রাদে বর্ণিত হয়েছেঃ “যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস রাখে যে, যা কিছু তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার উপর নাযিল হয়েছে, তা সবই সত্য-এ ব্যক্তি কি তার মত হতে পারে যে অন্ধ? বস্তুতঃ উপদেশ তো বুদ্ধিমান লোকেরাই গ্রহণ করে থাকে। যারা আল্লাহর সঙ্গে যা অঙ্গীকার করেছে তা পুরো করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না। আর তারা এমন যে, আল্লাহ যে সম্পর্কসমূহ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা বহাল রাখে এবং তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে ও কঠিন শাস্তির আশংকা করে।” একটু আগে বেড়ে বলা হয়েছেঃ “আর যারা আল্লাহর অঙ্গীকারসমূহকে তা শক্ত করার পর ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যে সম্পর্কসমূহ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে এবং দুনিয়ায় ফিত্না ফাসাদ করে, এমন লোকদের উপর হবে লান এবং তাদের পরিণাম হবে অশুভ।” আল্লাহ পাক স্বীয় বান্দাদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন। এখানে অঙ্গীকারের অর্থ এটাই আর তা হচ্ছে আল্লাহর সম্পূর্ণ নির্দেশ মেনে চলা এবং সমস্ত নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকা। তাকে ভেঙ্গে দেয়ার অর্থ হচ্ছে তার উপর আমল না করা। কেউ কেউ বলেন যে, অঙ্গীকার ভঙ্গকারীরা হচ্ছে আহলে কিতাবের কাফির ও মুনাফিকরা। অঙ্গীকার হচ্ছে ওটাই যা তাওরাতে তাদের কাছে নেয়া হয়েছিল যে, তারা ওর সমস্ত কথা মেনে চলবে, মুহাম্মদ (সঃ)-এর আনুগত্য স্বীকার করবে, তার নবুওয়াতের প্রতি বিশ্বাস করবে এবং তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য মনে করবে। আর অঙ্গীকার ভঙ্গ করা এই যে, জেনেশুনে তারা তার নবুওয়াত ও আনুগত্য অস্বীকার করেছে এবং অঙ্গীকার সত্ত্বেও ওকে গোপন করেছে, আর পার্থিব স্বার্থের কারণে ওর উল্টো করেছে।ইমাম ইবনে জারীর (রাঃ) এই কথাকে পছন্দ করে থাকেন এবং মুকাতিল বিন হিব্বানেরও (রঃ) এটাই কথা। কেউ কেউ বলেন যে, এর ভাবার্থে কোন নির্দিষ্ট দলকে বুঝায় না, বরং সমস্ত কাফির, মুশরিক ও মুনাফিককে বুঝায়। অঙ্গীকারের ভাবার্থ এই যে, আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর নবীর (সঃ) নবুওয়াতকে স্বীকার করাযার প্রমাণে প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী ও বড় বড় মু'জিযাবিদ্যমান রয়েছে। আর ওটা ভেঙ্গে দেয়ার অর্থ হচ্ছে তাওহীদ ও সুন্নাত হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়া এবং অস্বীকার করা। এই কথাটিই বেশী মজবুত ও যুক্তিসঙ্গত। ইমাম যামাখশারীর (রঃ) ঝোকও এদিকেই। তিনি বলেন যে, অঙ্গীকারের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা-যা মানবীয় প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া অঙ্গীকারের দিন এর অঙ্গীকার নেয়া হয়েছিল। আল্লাহ পাক বলেছিলেনঃ “আমি কি তোমাদের প্রভু নই?” তখন সবাই উত্তর দিয়েছিলঃ “হাঁ, নিশ্চয় আপনি আমাদের প্রভু। অতঃপর যেসব কিতাব দেয়া হয়েছে তাতেও অঙ্গীকার করানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “তোমরা আমার অঙ্গীকার পুরো কর, আমিও অেমাদের অঙ্গীকার পুরো করব।" কেউ কেউ বলেন যে, অঙ্গীকারের ভাবার্থ হচ্ছে সেই অঙ্গীকার যা আত্মসমূহের নিকট হতে নেয়া হয়েছিল, যখন তাদেরকে হযরত আদম (আঃ)-এর পৃষ্ঠদেশ হতে বের করা হয়েছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “তোমাদের প্রভু যখন আদম (আঃ) এর সন্তানদের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, আমিই তোমাদের প্রভু এবং তারা সবাই স্বীকার করেছিল। আর একে ভেঙ্গে দেয়ার অর্থ হচ্ছে একে ছেড়ে দেয়া। এ সমুদয় কথা তাফসীর-ই-ইবনে জারীরে উদ্ধৃত করা হয়েছে। মুনাফিকের লক্ষণহযরত আবুল আলিয়া (রঃ) বলেনঃ “আল্লাহর অঙ্গীকার ভেঙ্গে দেয়া যা মুনাফিকদের কাজ ছিল, তা হচ্ছে এই ছয়টি অভ্যাসঃ (১) কথা বলার সময় মিথ্যা বলা, (২) প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা, (৩) গচ্ছিত বস্তু আত্মসাৎ করা, (৪) আল্লাহর অঙ্গীকার দৃঢ় করণের পর তা ভঙ্গ করা (৫) যা অবিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা বিচ্ছিন্ন করা এবং (৬) পৃথিবীতে বিবাদের সৃষ্টি করা। তাদের এই ছয়টি অভ্যাস তখনই প্রকাশ পায় যখন তারা জয়যুক্ত হয়। আর যখন তারা পরাজিত হয় তখন তারা প্রথম তিনটি কাজ করে থাকে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, কুরআনের আদেশ ও নিষেধাবলী পড়া, সত্য বলিয়া জানা, অতঃপর না মানাও ছিল অঙ্গীকার ভঙ্গ করা। আল্লাহ যা মিলিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন-এর ভাবার্থ হচ্ছে আত্মীয়তার বন্ধন অবিচ্ছিন্ন রাখা এবং আত্মীয়দের হক আদায় করা ইত্যাদি। যেমন কুরআন মাজীদের এক জায়গায় আছেঃ “সুতরাং যদি তোমরা (যুদ্ধ হতে) সরে থাকো, তবে কি তোমাদের এ সম্ভাবনা আছে যে, তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে বিবাদ সৃষ্টি কর এবং পরস্পর আত্মীয়তা কর্তন করে ফেল?” ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আবার এটাও বলা হয়েছে যে, আয়াতটি সাধারণ। যা মিলিত রাখার ও আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা তারা ছিন্ন করেছিল এবং আদায় করেনি (আরবি) এর অর্থ হচ্ছে আখেরাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত। যেমন আল্লাহ পাক বলেছেনঃ “তাদের উপর হবে লা'নত এবং তাদের পরিণাম হবে খারাপ।"হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন যে, কুরআন মাজীদে মুসলমান ছাড়া অন্যদেরকে যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে সেখানে ভাবার্থ হবে কাফির এবং যেখানে মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে সেখানে অর্থ হবে পাপী (আরবি) শব্দটি (আরবি)-এর বহুবচন। জনগণ প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে এবং দুনিয়ার মোহে পড়ে আল্লাহর রহমত হতে সরে গেছে বলে তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে। মুনাফিক ও কাফির ব্যবসায়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মতই। যখন দয়া অনুগ্রহের খুবই প্রয়োজন হবে অর্থাৎ কিয়ামতের দিন-সেই দিন এরা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ হতে বঞ্চিত থাকবে।

Notes placeholders
اقرأ واستمع وابحث وتدبر في القرآن الكريم

Quran.com منصة موثوقة يستخدمها ملايين الأشخاص حول العالم لقراءة القرآن الكريم والبحث فيه والاستماع إليه والتدبر فيه بعدة لغات. كما يوفر الموقع ترجمات وتفسيرات وتلاوات وترجمة كلمة بكلمة وأدوات للدراسة العميقة، مما يجعل القرآن الكريم في متناول الجميع.

كصدقة جارية، يكرّس Quran.com جهوده لمساعدة الناس على التواصل العميق مع القرآن الكريم. بدعم من Quran.Foundation، وهي منظمة غير ربحية 501(c)(3)، يواصل Quran.com في التقدم و النمو كمصدر مجاني وقيم للجميع، الحمد لله.

تصفّح
الصفحة الرئيسة
راديو القرآن الكريم
القرّاء
معلومات عنا
المطورون
تحديثات المنتج
الملاحظات
مساعدة
مشاريعنا
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
المشاريع غير الربحية التي تملكها أو تديرها أو ترعاها Quran.Foundation
الروابط الأكثر شيوعًا

آية الكرسي

يس

الملك

الرّحمن

الواقعة

الكهف

المزّمّل

خريطة الموقـعالخصوصيةالشروط والأحكام
© ٢٠٢٦ Quran.com. كل الحقوق محفوظة