You are reading a tafsir for the group of verses 6:37 to 6:39
3

৩৭-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর: মুশরিকদের ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে- তারা বলেঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কোন নিদর্শন বা অলৌকিক জিনিস আল্লাহ আপনার উপর অবতীর্ণ করেন না কেন? যেমন যমীনে ঝরণা প্রবাহিত হওয়া ইত্যাদি। তাই ইরশাদ হচ্ছে-হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি বলে দাও যে, আল্লাহ তো এই কাজের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। কিন্তু এর বিলম্বে দূরদর্শিতা রয়েছে। তা এই যে, যদি তাদের চাহিদা অনুযায়ী মহান আল্লাহ কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করে দেন এবং এর পরেও তারা ঈমান না আনে তবে তৎক্ষণাৎ তাদের উপর তার শাস্তি নেমে আসবে, মৃত্যু পর্যন্ত তাদেরকে অবসর দেয়া হবে না। যেমন পূর্ববর্তী উম্মতদের সাথে এরূপ ব্যবহারই করা হয়েছিল। আহলে সামূদের দৃষ্টান্ত তো তোমাদের সামনেই বিদ্যমান রয়েছে। আমি ইচ্ছে করলে নিদর্শনও দেখাতে পারি। আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ হে মুশরিকদের দল! ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী জীব-জন্তু এবং আকাশে উড়ডীয়মান পাখিও তোমাদের মতই বিভিন্ন প্রকারের রয়েছে।মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এইসব জীব-জন্তু ও পাখির কতগুলো প্রকার রয়েছে যেগুলোর নাম প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, পাখিও একটি উম্মত এবং মানব-দানবও এক একটি উম্মত। এইসব উম্মতও তোমাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টজীব।অর্থাৎ সমস্ত জীবেরই আল্লাহ খবর রাখেন। কাউকেও আহার্য দান করতে তিনি ভুলে যান না। জলচরই হাক বা স্থলচরই হাক। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রত্যেক প্রাণীরই জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর রয়েছে। (১১:৬) অর্থাৎ তিনি ঐ সব প্রাণীর সংখ্যা, বাসস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। এমন কি ওগুলোর অঙ্গভঙ্গি সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল। আর এক জায়গায় রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ “এমন বহু প্রাণী রয়েছে যেগুলোর জীবিকার দায়িত্ব তোমার উপর নেই, আল্লাহই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে জীবিকা দান করছেন, তিনি শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।" (২৯:৬০) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ)-এর খিলাফতের যুগে এক বছর ফড়িং অদৃশ্য হয়ে যায়। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন সন্ধান পেলেন না। ফলে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি ইরাক, সিরিয়া প্রভৃতি দেশে লোক পাঠিয়ে সংবাদ নিলেন যে, কোন ফড়িং দেখা যায় কি-না। তখন ইয়ামান হতে আগত লোক কতগুলো ফড়িং তার সামনে এনে হাযির করে। তা দেখে তিনি তিনবার ‘আল্লাহু আকবার পাঠ করেন এবং বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, “আল্লাহ তা'আলা এক হাজার মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন, ছয়শ’ জলচর এবং চারশ’ স্থলচর। সর্ব প্রথম আল্লাহ পাক ফড়িংকে ধ্বংস করবেন। তারপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য সৃষ্টজীবকে ধ্বংস করতে থাকবেন, যেমনভাবে তাসবীহর দানা ঝরতে থাকে।”(আরবী) অতঃপর তাদেরকে তাদের প্রভুর নিকট সমবেত করা হবে। অর্থাৎ এই সমুদয় উম্মতেরই মৃত্যু সংঘটিত হবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, চতুষ্পদ জন্তুর মৃত্যুই ওদের হাশর হওয়া। এই সম্পর্কে অন্য একটি উক্তি এই রয়েছে যে, এই চতুষ্পদ জন্তুগুলোকেও কিয়ামতের দিন পুনরায় উঠানো হবে। যেহেতু আল্লাহ পাক বলেছেন (আরবী) অর্থাৎ ‘এবং যখন চতুষ্পদ জন্তুগুলোকে একত্রিত করা হবে।' (৮১:৫) হযরত আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দুটি ছাগলকে দেখলেন যারা একে অপরকে শিং দ্বারা মারছিল। তখন বললেনঃ হে আবু যার (রাঃ)! এরা কিভাবে লড়াই করছে তা কি তুমি জান? তিনি উত্তরে বললেনঃ জ্বীনা।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবী) তখন বললেনঃ ‘আল্লাহ কিন্তু অত্যাচারীকে জানেন এবং কিয়ামতের দিন এদেরও তিনি বিচার করবেন। আর যার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে উড়ন্ত পাখী সম্পর্কেও জ্ঞান দান করেছেন। তিনি বলেন যে, শিং বিশিষ্ট বকরী হতে শিং বিহীন বকরী কিয়ামতের দিন প্রতিশোধ নিয়ে নেবে। (আরবী) সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ চতুষ্পদ জন্তু, ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রাণী এবং পাখীসমূহকেও সৃষ্টি করবেন। প্রত্যেকেই অপর হতে নিজ নিজ প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ওগুলোকে সম্বোধন করে বলবেনঃ “তোমরা সব মাটি হয়ে যাও! সেই সময় কাফিররাও আফসোস করে বলবেঃ হায়! আমরাও যদি মাটি হয়ে যেতাম!'(আরবী) অর্থাৎ, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা তাদের মূখতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে বধির ও মূকদের মত আর তারা অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে। তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় এই লোকগুলো সঠিক ও সোজা রাস্তার উপর কিরূপে চলতে পারে? তাদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মত, যে আগুন জ্বালিয়েছে। ফলে ওর আশে-পাশের স্থান আলোকিত হয়েছে। হঠাৎ ঐ আগুন নিভে গেছে। কাজেই সে অন্ধকারের মধ্যে পড়ে গেছে। কিছুই সে দেখতে পায় না। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেছেন-(আরবী) অর্থাৎ আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান সোজা সরল পথের উপর পরিচালিত করেন।