3

আর যে তার মাতা-পিতাকে বলল, ‘আফসোস তোমাদের জন্য![১] তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমাকে পুনরায় জীবিত করা হবে; অথচ আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়ে গেছে?’[২] তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলে, ‘দুর্ভোগ তোমার জন্য! বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।’ কিন্তু সে বলে, ‘এটা তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।’ [৩]

[১] উপরোক্ত আয়াতে সৌভাগ্যবান সন্তানদের আলোচনা ছিল। যারা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারও করে এবং তাদের জন্য কল্যাণের দু'আও করে। এখানে তাদের বিপরীত দুর্ভাগা ও অবাধ্য সন্তানদের কথা আলোচনা করা হচ্ছে। যারা পিতা-মাতার সাথে অভদ্র আচরণ করে। أُفٍّ لَّكُمَا আক্ষেপ তোমাদের উপর। أف (উঃ) শব্দটি বিরক্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ অবাধ্য সন্তানরা পিতার উপদেশমূলক বাণী বা ঈমান ও সৎকর্মের প্রতি আহবানের দাওয়াতে বিরক্তি ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে। অথচ সন্তানদের জন্য এ রকম করার মোটেই কোন অনুমতি নেই। এই আয়াতটি ব্যাপক; সকল অবাধ্য সন্তান এই নির্দেশের আওতাধীন।

[২] উদ্দেশ্য হলো, তারা তো পুনরায় জীবিত হয়ে দ্বিতীয়বার দুনিয়াতে ফিরে আসেনি। অথচ দ্বিতীয়বার জীবিত হওয়ার অর্থ কিয়ামতের দিন জীবিত হওয়া, যার পর হিসাব হবে।

[৩] মা-বাপ মুসলিম এবং সন্তান কাফের হলে, সেখানে এই ধরনের বাদানুবাদ হয়ে থাকে। যার একটি দৃষ্টান্ত এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।