Log masuk
Log masuk
Log masuk
Pilih Bahasa

Tafsir: Al-Qasas 28:88

28:88
ولا تدع مع الله الاها اخر لا الاه الا هو كل شيء هالك الا وجهه له الحكم واليه ترجعون ٨٨
وَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَـٰهًا ءَاخَرَ ۘ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ كُلُّ شَىْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُۥ ۚ لَهُ ٱلْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ٨٨
وَلَا
تَدۡعُ
مَعَ
ٱللَّهِ
إِلَٰهًا
ءَاخَرَۘ
لَآ
إِلَٰهَ
إِلَّا
هُوَۚ
كُلُّ
شَيۡءٍ
هَالِكٌ
إِلَّا
وَجۡهَهُۥۚ
لَهُ
ٱلۡحُكۡمُ
وَإِلَيۡهِ
تُرۡجَعُونَ
٨٨
Dan janganlah engkau menyembah tuhan yang lain bersama-sama Allah. Tiada Tuhan melainkan Dia. Tiap-tiap sesuatu akan binasa melainkan Zat Allah. BagiNyalah kuasa memutuskan segala hukum, dan kepadaNyalah kamu semua dikembalikan (untuk dihitung amal masing-masing dan menerima balasan).
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Hadis
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 28:85 hingga 28:88

৮৫-৮৮ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহর তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ হে রাসূল (সঃ)! তুমি তোমার রিসালাতের তাবলীগ করতে থাকো, মানুষকে আল্লাহর কালাম শুনিয়ে যাও, আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে কিয়ামতের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। অতঃপর সেখানে তোমাকে নবুওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “অবশ্যই আমি জিজ্ঞাসাবাদ করবো যাদের নিকট রাসূল পাঠানো হয়েছিল তাদেরকে এবং অবশ্যই আমি প্রশ্ন করবো রাসূলদেরকে।” (৭:৬) অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “ঐদিন রাসূলদেরকে একত্রিত করে জিজ্ঞেস করা হবে তোমাদেরকে কি জবাব দেয়া হয়েছিল?” (৫:১০৯) আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আনয়ন করা হবে নবীগণকে এবং সাক্ষীদেরকে।”সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, (আরবি) দ্বারা জান্নাতও উদ্দেশ্য হতে পারে। আবার মৃত্যুও হতে পারে এবং পুনরুত্থানও অর্থ হতে পারে। অর্থাৎ দ্বিতীয়বার জীবিত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।সহীহ বুখারীতে রয়েছে যে, (আরবি) দ্বারা মক্কাকে বুঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মক্কা যা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জন্মভূমি ছিল।যহাক (রঃ) বলেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কা হতে বের হন এবং জুহফাহ্ নামক স্থানে পৌঁছেন তখন মক্কার আকাঙ্ক্ষা তাঁর অন্তরে জেগে ওঠে, ঐ সময় এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। তার সাথে ওয়াদা করা হয় যে, তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে দেয়া হবে। এর দ্বারা এটাও বের হচ্ছে যে, এটা মাদানী আয়াত। অথচ পুরো সূরাটি মক্কী। এও বলা হয়েছে যে, (আরবি) দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাসকে বুঝানো হয়েছে। যিনি এই মত পোষণ করেছেন, সম্ভবতঃ কিয়ামতই তার উদ্দেশ্য। কেননা, বায়তুল মুকাদ্দাসই হাশরের ময়দান হবে। এই সমুদয় উক্তিকে একত্রিত করার উপায় এই যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কখনো তাফসীর করেছেন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মক্কায় ফিরে যাওয়ার দ্বারা, যা মক্কা বিজয় দ্বারা পূর্ণ হয়। আর এটা রাসূলল্লাহ (সঃ)-এর বয়স পূর্ণ হয়ে যাওয়ার একটি বড় নিদর্শন ছিল। যেমন তিনি সূরায়ে (আরবি) এর তাফসীরে বর্ণনা করেছেন। হযরত উমার (রাঃ) তার অনুকূলেই মত দিয়েছিলেন। তিনি হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে বলেছিলেনঃ “এ ব্যাপারে আপনি যা জানেন, আমিও তাই জানি।” এটা একই কারণ যে, তার থেকেই এই আয়াত দ্বারা যেখানে মক্কা’ বর্ণিত আছে সেখানেই রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইন্তেকাল’ও বর্ণিত আছে। আবার তিনি কখনো জান্নাত’ তাফসীর করেছেন, যেটা তাঁর আবাসস্থল এবং তাঁর তাবলীগে রিসালাতের প্রতিদান যে, তিনি দানব ও মানবকে আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহ্বান করেছেন। আর তিনি ছিলেন সমস্ত মাখলুকের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বাকপটু ও উত্তম।এরপর মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে বলেনঃ তুমি তোমার বিরুদ্ধাচারীদেরকে ও তোমাকে অবিশ্বাসকারীদেরকে বলে দাও- কে সৎ পথের নির্দেশ এনেছে এবং কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে তা আমার প্রতিপালক খুব ভাল জানেন।আল্লাহ তা'আলা তাঁর আর একটি বড় নিয়ামতের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর অহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে তিনি আশা করেননি যে, তার উপর আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হবে। এটা তো শুধু তাঁর প্রতি তাঁর প্রতিপালকের অনুগ্রহ। সুতরাং কাফিরদের সহায়ক হওয়া তাঁর জন্যে মোটেই সমীচীন নয়। তাদের থেকে পৃথক থাকাই তার উচিত। তাঁর এই ঘোষণা দেয়া উচিত যে, তিনি কাফিরদের বিরুদ্ধাচরণকারী ।অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতি আল্লাহর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর এই কাফিররা যেন তোমাকে কিছুতেই সেগুলো থেকে বিমুখ না করে। অর্থাৎ এই লোকগুলো যে তোমার ও দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণ করছে এবং তোমার অনুসরণ হতে জনগণকে ফিরিয়ে রাখছে এতে তুমি যেন মনঃক্ষুন্ন হয়ে তোমার কাজ থেকে বিরত না হও। বরং তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও। আল্লাহ তোমার কালেমাকে পুরোকারী, তোমার দ্বীনের পৃষ্ঠপোষকতাকারী, তোমার রিসালাতকে জয়যুক্তকারী এবং তোমার দ্বীনকে সমস্ত দ্বীনের উপর বুলন্দকারী। সুতরাং তুমি জনগণকে তোমার প্রতিপালকের ইবাদতের দিকে আহ্বান করতে থাকো, যিনি এক ও শরীকবিহীন। তোমার জন্যে এটা উচিত নয় যে, তুমি কাফিরদের সহায়তা করবে। আল্লাহর সাথে অন্য কাউকেও আহ্বান করো না। ইবাদতের যোগ্য একমাত্র তিনিই। উলুহিয়্যাতের যোগ্য একমাত্র তাঁরই বিরাট সত্তা। তিনিই চিরস্থায়ী ও সদা বিরাজমান। সমস্ত সৃষ্টজীব মৃত্যুবরণ করবে। কিন্তু তাঁর মৃত্যু নেই। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “ভূ-পৃষ্ঠে যত কিছু আছে সবই নশ্বর, অবিনশ্বর শুধু তোমার প্রতিপালকের সত্তা, যিনি মহিমময়, মহানুভব।” (৫৫:২৬-২৭) দ্বারা আল্লাহর সত্তাকে বুঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “কবি লাবীদ একটি চরম সত্য কথা বলেছে। সে বলেছেঃ (আরবি) অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই বাতিল বা অসার।” মুজাহিদ (রঃ) এবং সাওরী (রঃ) বনে যে,(আরবি)-এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ সবকিছুই ধ্বংসশীল, কিন্তু শুধু ঐ কাজ যা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়। কবিদের কবিতাতেও শব্দটি এই ভাবার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন কোন কবি বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “যে আল্লাহ সমস্ত বান্দার প্রতিপালক, যার দিকে মনোযোগ ও বাসনা, যার জন্যে আমল, তার নিকট আমি আমার এমন পাপের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যা আমি গণনা করে শেষ করতে পারবো না।” এই উক্তি পূর্বের উক্তির বিপরীত নয়। এটাও নিজের জায়গায় ঠিক আছে যে, মানুষের সব কাজই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, শুধুমাত্র ঐ কাজের পুণ্য সে লাভ করবে যা একমাত্র তারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সে করেছে। আর প্রথম উক্তিটির ভাবার্থও সম্পূর্ণরূপে সঠিক যে, সমস্ত প্রাণী ধ্বংস ও নষ্ট হয়ে যাবে, শুধুমাত্র আল্লাহর সত্তা বাকী থাকবে যা ধ্বংস ও নষ্ট হওয়া থেকে বহু ঊর্ধ্বে। তিনিই প্রথম, তিনিই। শেষ। সবকিছুর পূর্বেও তিনি ছিলেন এবং সবকিছুর পরেও তিনি থাকবেন।বর্ণিত আছে যে, যখন হযরত ইবনে উমার (রাঃ) নিজের অন্তরকে দৃঢ় করতে চাইতেন তখন তিনি জঙ্গলে চলে যেতেন এবং কোন ভগ্নাবশেষের সামনে দাড়িয়ে ব্যথিত সুরে বলতেনঃ “তোমার পরিবারবর্গ কোথায়?” অতঃপর স্বয়ং এর উত্তরে তিনি। (আরবি)এই আয়াতটিই পাঠ করতেন। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ বিধান তাঁরই এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। তিনি প্রত্যেককেই পুণ্য ও পাপের প্রতিদান প্রদান করবেন। তিনি পুণ্যের পুরস্কার ও পাপের শাস্তি দিবেন।