وارد شوید
وارد شوید
وارد شوید
انتخاب زبان
۲۳:۳۴
ولا تنفع الشفاعة عنده الا لمن اذن له حتى اذا فزع عن قلوبهم قالوا ماذا قال ربكم قالوا الحق وهو العلي الكبير ٢٣
وَلَا تَنفَعُ ٱلشَّفَـٰعَةُ عِندَهُۥٓ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُۥ ۚ حَتَّىٰٓ إِذَا فُزِّعَ عَن قُلُوبِهِمْ قَالُوا۟ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ۖ قَالُوا۟ ٱلْحَقَّ ۖ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْكَبِيرُ ٢٣
وَلَا
تَنفَعُ
ٱلشَّفَٰعَةُ
عِندَهُۥٓ
إِلَّا
لِمَنۡ
أَذِنَ
لَهُۥۚ
حَتَّىٰٓ
إِذَا
فُزِّعَ
عَن
قُلُوبِهِمۡ
قَالُواْ
مَاذَا
قَالَ
رَبُّكُمۡۖ
قَالُواْ
ٱلۡحَقَّۖ
وَهُوَ
ٱلۡعَلِيُّ
ٱلۡكَبِيرُ
٢٣
و شفاعت نزد او سود نبخشد؛ مگر برای کسی‌که (او خود) برایش اجازت داده باشد، تا زمانی‌که اضطراب (و نگرانی) از دل‌های شان بر طرف شود، گویند: «پروردگار‌تان چه گفت؟» گویند: «حق را (فرمود)، و او بالا و بلند مرتبۀ بزرگ است»
تفاسیر
لایه‌ها
درس ها
بازتاب ها
پاسخ‌ها
قیراط
حدیث
شما در حال خواندن تفسیری برای گروه آیات 34:22 تا 34:23

২২-২৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বর্ণনা করছেন যে, তিনি এক ও একক। তিনি অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত। তিনি ছাড়া কোনই মা'বুদ নেই। তিনি তুলনাবিহীন ও অংশীবিহীন। তাঁর কোন শরীক নেই, সাথী নেই, পরামর্শদাতা নেই, মন্ত্রী নেই এবং পরিচালক নেই। সুতরাং কে তাঁর সামনে হঠকারিতা করবে এবং তার বিরুদ্ধাচরণ করবে? তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ যাদের কাছে তোমরা আবেদন করে থাকো, জেনে রেখো যে, অণু পরিমাণও ক্ষমতা তাদের নেই। তারা শক্তিহীন ও অক্ষম। না দুনিয়ায় তাদের কোন ক্ষমতা চলে, না আখিরাতে। যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যাদেরকে তারা আল্লাহ ছাড়া ডাকে তারা খেজুরের ছালেরও মালিকানা রাখে না।”(৩৫:১৩) তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা নেই এবং মালিকানার ভিত্তিতে কোন রাজত্ব নেই। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কাজে তাদের কাছে কোনই সাহায্য গ্রহণ করেন না। অথচ তারা সবাই দরিদ্র, ফকীর ও অন্যের মুখাপেক্ষী। তারা সবাই গোলাম ও বান্দা। তার শ্রেষ্ঠত্ব, বড়ত্ব, ইজ্জত ও মর্যাদা এমনই যে, তার অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে কেউ কারো জন্যে সুপারিশ করার সাহস রাখে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “কে সে, যে তার অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?”(২:২৫৫) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আকাশের বহু ফেরেশতাও কারো সুপারিশের জন্যে মুখ খুলতে পারে না। হ্যাঁ, তবে আল্লাহ স্বীয় সম্মতিক্রমে যার জন্যে অনুমতি দিবেন (তার জন্যে অরে)।”(৫৩:২৬) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা শুধু তারই জন্যে সুপারিশ করতে পারে যার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট রয়েছেন এবং তারা তাঁর ভয়ে কম্পমান থাকে।”(২১:২৮)যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, সমস্ত আদম-সন্তানের নেতা ও সবচেয়ে বড় সুপারিশকারী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) কিয়ামতের দিন যখন মাকামে মাহমূদে শাফাআতের জন্যে উপস্থিত হবেন এবং সবাই ফায়সালার জন্যে তাদের প্রতিপালকের নিকট আসবে, ঐ সময়ের কথা রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি আল্লাহ তা'আলার সামনে সিজদায় পড়ে যাবো। কতক্ষণ যে আমি জিদায় পড়ে থাকবো তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। ঐ সিজদায় আমি আল্লাহ তা'আলার এতো প্রশংসা করবো যে, ঐ শব্দগুলো এখন আমার মনে হচ্ছে না। তখন আল্লাহ বলবেনঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! মাথা উঠাও এবং কথা বল, তোমার কথা শোনা হবে। তুমি চাও, তোমাকে দেয়া হবে। তুমি শাফাআত কর, কবূল করা হবে।” প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্বের আর একটি বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, যখন তিনি স্বীয় অহীর মাধ্যমে কথা বলেন, আর আকাশসমূহে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী। ফেরেশতারা তা শুনে থাকেন, তখন তাঁরা ভয়ে কেঁপে ওঠেন এবং তাদের জ্ঞান লোপ পাওয়ার উপক্রম হয়। পরে যখন তাদের অন্তর হতে ভয় বিদূরিত হয় (আরবী) শব্দটি কোন কোন পঠনে (আরবী) ও এসেছে, দুটোরই ভাবার্থ একই। তখন তাঁরা একে অপরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “এই সময় প্রতিপালকের কি হুকুম নাযিল হলো?” আহলে আরশ তাদের পার্শ্ববর্তীদের নিকট ধারাবাহিকভাবে ও সঠিকভাবে আল্লাহর আদেশ পৌছিয়ে থাকেন। এই আয়াতের একটি ভাবার্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন মৃত্যু-যাতনার সময় আসে তখন মুশরিক একথা বলে থাকে এবং অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিনও বলবে যখন তাদের জ্ঞান ফিরবে তাদের দুনিয়ার গাফিলতির পর, অর্থাৎ দুনিয়ায় যে তারা আল্লাহকে, তাঁর রাসূল (সঃ)-কে, আখিরাতকে ইত্যাদি সবকিছুকেই ভুলে ছিল, কিয়ামতের দিন যখন তাদের জ্ঞান ফিরবে এবং সব কিছু বুঝতে পারবে তখন তারা পরস্পর বলাবলি করবেঃ “তোমাদের প্রতিপালক কি বললেন?" উত্তরে বলা হবেঃ “যা সত্য তিনি তাই বলেছেন।” যে জিনিস হতে তারা দুনিয়ায় নিশ্চিন্ত থাকতো আজ সেটা তাদের সামনে পেশ করা হবে। তাহলে অন্তর হতে ভয় দূর হওয়ার অর্থ এই হলো যে, যখন তাদের চোখের উপর হতে পর্দা সরিয়ে দেয়া হবে তখন তাদের পূর্বের সব সন্দেহ ও অবিশ্বাস মিটে যাবে এবং শয়তানী কুমন্ত্রণা দূর হয়ে যাবে, ঐ সময় তারা আল্লাহ তা'আলার সমস্ত কথার সত্যতা স্বীকার করে নিবে এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্মের কথা মেনে নিবে। সুতরাং মৃত্যুর সময়ের স্বীকারুক্তিও কোন কাজে আসবে না এবং কিয়ামতের দিনের স্বীকারুক্তিতেও কোন লাভ হবে না। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-এর মতে প্রথম তাফসীরই সঠিক। অর্থাৎ এটা ফেরেশতাদের উক্তি হওয়াই যুক্তিযুক্ত। হাদীসে ও আসারেও এর উপরই জোর দেয়া হয়েছে। সহীহ বুখারীতে এ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ তাআলা কোন বিষয়ের ফায়সালা আসমানে করেন তখন ফেরেশতারা বিনয়ের সাথে তাদের ডানা ঝুঁকিয়ে থাকেন এবং প্রতিপালকের কালাম এমনই হয় যেমন ঐ শিকলের শব্দ, যা পাথরের উপর বাজানো হয়। যখন তাদের ভয় কমে আসে তখন তারা পরস্পরের মধ্যে বিজ্ঞাসাবাদ করেনঃ “তোমাদের প্রতিপালক কি বললেন?" উত্তরে বলা হয়ঃ “যা সত্য তিনি তাই বলেছেন। তিনি সমুচ্চ, মহান।" কোন কোন সময় জ্বিনেরা ফেরেশতাদের কথা শুনার জন্যে তাদের নির্ধারিত স্থানে গমন করে এবং চুরি করে কিছু শুনেও ফেলে। তাদের যারা উপরে থাকে তারা তাদের নীচে অবস্থানকারীদেরকে তা বলে দেয়। এভাবে ঐ কথাগুলো দুনিয়ায় চলে আসে এবং গণক ও যাদুকরদের কানে পৌঁছে যায়। ঐ শয়তান জ্বিনদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্যে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে। কিন্তু তার পূর্বেই কিছু কিছু খবর তারা দুনিয়ায় পৌঁছিয়ে দেয়। কখনো কখনো আবার খবর পৌঁছানোর পূর্বেই তারা জ্বলে পুড়ে যায়।গণক বা যাদুকর দু' একটি ঐ সত্য কথার সাথে শত শতটি মিথ্যা মিলিয়ে জনগণের সামনে প্রচার করে। কাহেনের দু' একটি কথা যখন সত্য প্রমাণিত হয় তখন জনগণ তার মুরীদ হতে শুরু করে। তারা একে অপরকে বলেঃ “দেখো, এ কাজটি তার কথা অনুযায়ী হয়েছে।”হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদের দলে বসেছিলেন। এমন সময় একটি তারকা খসে পড়লো, ফলে চতুর্দিক আলোকিত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “অজ্ঞতার যুগে এভাবে তারকা ছিটকে পড়লে তোমরা কি বলতে?” সাহাবীরা জবাবে বললেনঃ “এ অবস্থায় আমরা বলতাম যে, হয়তো কোন বড় ও সম্ভান্ত মানুষ জন্মগ্রহণ করেছে অথবা মারা গেছে। বর্ণনাকারী যুহরী (রঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ অজ্ঞতার যুগেও কি এই ভাবে তারকা ঝরে বা ছিটকে পড়তো?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ্যা, তবে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নবুওয়াতের যুগেই এটা খুব বেশী হয়।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদের ঐ কথার উত্তরে বললেনঃ “জেনে রেখো যে, কারো জন্ম বা মৃত্যুর সাথে ওগুলোর কোন সম্পর্কে নেই। কথা হলো এই যে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা যখন আকাশে কোন বিষয়ের ফায়সালা করেন তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তাঁর তাসবীহ পাঠ করতে থাকেন। তারপর সপ্তম আকাশবাসী, এরপর ষষ্ঠ আকাশবাসী তাঁর মহিমা ঘঘাষণা করতে থাকেন। আর এভাবে শেষ পর্যন্ত এই তাসবীহ্ দুনিয়ার আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর আরশের আশে পাশের ফেরেশতারা আরশ বহনকারী ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “আল্লাহ তা'আলা কি বললেন?” তারা তখন তাঁদেরকে তা বলে দেন। এভাবে প্রত্যেক নীচের ফেরেশতা তাদের উপরের ফেরেশতাদেরকে এটা জিজ্ঞেস করেন এবং তাঁদেরকে তা বলে দেন। শেষ পর্যন্ত প্রথম আকাশে এ খবর পৌছে যায়। কখনো কখনো চুরি করে শ্রবণকারী জ্বিনেরা ওটা শুনে নেয়। তখন তাদের উপর তারকা ছিটকে পড়ে। এতদসত্ত্বেও যে কথা পৌঁছানোর ইচ্ছা আল্লাহ তাআলা করেন, ওটা ঐ জ্বিন নিয়ে নেয় এবং ওর সাথে কহু কিছু মিথ্যা মিলিয়ে নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রচার করে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা কোন বিষয়ের অহী করার ইচ্ছা করেন তখন তিনি অহীর মাধ্যমে কথা বলেন। সুতরাং যখন তিনি কথা বলেন তখন আকাশ ভয়ে কাপতে শুরু করে। আর ফেরেশতারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সিজদায় পড়ে যান। সর্বপ্রথম হযরত জিবরাঈল (আঃ) মাথা উঠান এবং আল্লাহর আদেশ শ্রবণ করেন। অতঃপর তার মুখে অন্যান্য ফেরেশতারা শুনেন এবং বলতে থাকেন যে, আল্লাহ সত্য বলেছেন। তিনি উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তিনি সমুচ্চ ও মহান।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও হযরত কাতাদা (রঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন যে, এটা হলো ঐ অহী যা হযরত ঈসা (আঃ)-এর পরে নবী-শূন্য যামানায় বন্ধ থাকে। অতঃপর খাতিমুল মুরসালীন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উপর নতুনভাবে নাযিল হওয়া শুরু হয়। প্রকৃত কথা এই যে, এই ইবতিদা বা নতুনভাবে শুরু হওয়াটাও এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে আয়াতটি এটাকেও অন্তর্ভুক্ত করে এবং অন্য সবকেও করে।