Iniciar sesión
Iniciar sesión
Iniciar sesión
Seleccionar idioma

Tafseer ibn Kathir Tafsir: Al-Qásas Ayah 13

28:13
فرددناه الى امه كي تقر عينها ولا تحزن ولتعلم ان وعد الله حق ولاكن اكثرهم لا يعلمون ١٣
فَرَدَدْنَـٰهُ إِلَىٰٓ أُمِّهِۦ كَىْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ١٣
فَرَدَدۡنَٰهُﲻ
إِلَىٰٓﲼ
أُمِّهِۦﲽ
كَيۡﲾ
تَقَرَّﲿ
عَيۡنُهَاﳀ
وَلَاﳁ
تَحۡزَنَﳂ
وَلِتَعۡلَمَﳃ
أَنَّﳄ
وَعۡدَﳅ
ٱللَّهِﳆ
حَقّٞﳇ
وَلَٰكِنَّﳈ
أَكۡثَرَهُمۡﳉ
لَاﳊ
يَعۡلَمُونَﳋ
١٣ﳌ
Así se lo devolví a su madre [como nodriza] para consuelo de sus ojos, para que no se entristeciera y supiera que la promesa de Dios siempre se cumple, aunque la mayoría [de la gente] lo ignore.
Tafsires
Capas
Lecciones
Reflexiones.
Respuestas
Qiraat
Hadith
Estás leyendo un tafsir para el grupo de versículos 28:10 hasta 28:13

১০-১৩ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা বলেন যে, হযরত মূসা (আঃ)-এর মা যখন তাকে বাসের মধ্যে রেখে ফিরাউনের লোকজনের ভয়ে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন এবং অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়েন, আর আল্লাহর রাসূল (আঃ) ও তাঁর কলিজার টুকরা হযরত মূসা (আঃ)-এর চিন্তা ছাড়া অন্য কোন খেয়াল তার অন্তরে জেগেই উঠেনি, ঐ সময় যদি মহান আল্লাহ তাঁর অন্তরকে দৃঢ় না করতেন তবে ধৈর্যহারা হয়ে গোপন রহস্য তিনি প্রকাশ করে ফেলতেন যে, এই ভাবে তাঁর পুত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু মহামহিমান্বিত আল্লাহ তার হৃদয়কে দৃঢ় করে দেন এবং তার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মিয়ে দেন যে, তাঁর পুত্রকে অবশ্যই তিনি ফিরে পাবেন। হযরত মূসা (আঃ)-এর মাতা তাঁর বড় কন্যাকে বলেনঃ “হে আমার প্রিয় কন্যা! তুমি এই বাসের প্রতি দৃষ্টি রেখে সমুদ্রের তীর ধরে চলে যাও। পরিণাম কি হয় দেখা যাক? পরে তুমি আমাকে খবর জানাবে।”মায়ের কথামত হযরত মূসা (আঃ)-এর বোনটি দুর হতে বাকসের দিকে দৃষ্টি রেখে সমুদ্রের তীর ধরে চলতে থাকলেন। কিন্তু এমন আনমনাভাবে তিনি চলতে লাগলেন যে, তিনি যে বাটির দিকে খেয়াল রেখে চলছেন তা কেউ টেরও পেলো না। যখন বাক্সটি ফিরাউনের প্রাসাদের নিকট পৌছলো এবং দাসীরা তা উঠিয়ে নিয়ে অন্দর মহলে প্রবেশ করলো তখন কি ঘটে তা জানবার আশায় তিনি বাইরে দাঁড়িয়ে রইলেন। সেখানে এই ঘটলো যে, যখন হযরত আসিয়া (রাঃ) ফিরাউনকে হযরত মূসা (আঃ)-এর হত্যার আদেশ জারী করা হতে বিরত রাখলেন এবং শিশু হযরত মূসা (আঃ)-কে লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তখন শাহী মহলে যতগুলো ধাত্রী ছিল সবকেই শিশুটি দেয়া হলো এবং সবাই অতি আদরের সাথে শিশুটিকে দুধ পান করাতে চাইলো। কিন্তু আল্লাহ পাকের নির্দেশক্রমে শিশু হযরত মূসা (আঃ) কারো দুধ এক ঢাকেও পান করলেন না। অবশেষে হযরত আসিয়া শিশুটিকে তাঁর দাসীদের হাতে দিয়ে তাদেরকে বাইরে পাঠালেন যে, তারা যেন ধাত্রী অনুসন্ধান করে এবং শিশুটি যার দুধ পান করবে তাকে যেন তার কাছে নিয়ে যায়।বিশ্ব জগতের প্রতিপালকের ইচ্ছা ছিল এটাই যে, তাঁর নবী (আঃ) যেন স্বীয় মাতা ছাড়া আর কারো দুধ পান না করেন এবং এতে বড় যৌক্তিতা এই ছিল যে, এই বাহানায় যেন হযরত মূসা (আঃ) তাঁর মাতার নিকট পৌঁছতে পারেন। দাসীরা শিশু হযরত মূসা (আঃ)-কে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ে। তাঁর বোন তাকে চিনে নেন। কিন্তু তিনি তাদের কাছে কিছুই প্রকাশ করলেন না এবং তারাও কিছু বুঝতে পারলো না। তাঁর মাতা প্রথমে খুবই অস্থির ও উদ্বিগ্ন ছিলেন বটে, কিন্তু পরে মহান আল্লাহ তাঁকে ধৈর্য ও স্থিরতা দান করেছিলেন। ফলে তিনি নীরব ও শান্তই ছিলেন। হযরত মূসা (আঃ)-এর বোন দাসীদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমরা এতো ব্যতিব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন কেন?” তারা উত্তরে বললোঃ “এই শিশুটি কারো দুধ পান করছে না। তাই আমরা এমন এক ধাত্রীর খোজে বেরিয়েছি যার দুধ এ শিশু পান করবে। তাদের একথা শুনে হযরত মূসা (আঃ)-এর বোন তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা বললে আমি একজন ধাত্রীর খোঁজ দিতে পারি। সম্ভবতঃ এ শিশু তার দুধ পান করবে এবং সে একে উত্তমরূপে লালন-পালন করবে ও এর শুভাকাঙিক্ষনী হবে।” তাঁর এ কথা শুনে ঐ দাসীদের মনে কিছু সন্দেহ জাগলো যে, এ মেয়েটি শিশুটির পিতা-মাতার খবর রাখে, সুতরাং তারা তাঁকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞেস করলোঃ “তুমি কি করে জানলে যে, ঐ মহিলাটি এ শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব নেবে ও এর শুভাকাক্ষিনী হবে?” তিনি তৎক্ষণাৎ জবাব দিলেনঃ “সুবহানাল্লাহ! কে এটা চাইবে না যে, শাহী দরবারে তার সম্মান হোক এবং পুরস্কার ও দানের খাতিরে কে এই শিশুর প্রতি সহানুভূতি না দেখাবে?” তাঁর এ জবাবে তারাও বুঝে নিলো যে, তাদের পূর্ব ধারণা ভুল ছিল, মেয়েটি সঠিক কথাই বলেছে। সুতরাং তারা তাকে ছেড়ে দিয়ে বললোঃ “আচ্ছা, তাহলে চলো, ঐ ধাত্রীটির বাড়ী আমাদেরকে দেখিয়ে দাও।” তিনি তখন তাদেরকে নিয়ে তাদের বাড়ী গেলেন এবং তাঁর মাতার দিকে ইশারা করে বললেনঃ “একে দিয়ে দাও।” সরকারী লোকেরা শিশুটি তাঁকে প্রদান করলে তিনি তার দুধ পান করতে শুরু করলেন। সাথে সাথে এ খবর হযরত আসিয়া (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছিয়ে দেয়া হলো। এ খবর শুনে তিনি তো আনন্দে আটখানা হয়ে গেলেন। তাঁকে তিনি তাঁর প্রাসাদে ডেকে নেন এবং বহু কিছু পুরস্কার দেন। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, তিনিই শিশুটির মা। তিনি তাঁকে পুরস্কৃত করলেন শুধু এই কারণে যে, শিশুটি তার দুধ পান করেছে। হযরত আসিয়া (রাঃ) হযরত মূসা (আঃ)-এর মায়ের উপর অত্যন্ত খুশী হন এবং তাঁকে তাঁর রাজপ্রাসাদে থেকেই শিশুটিকে দুধ পান করাবার জন্যে অনুরোধ করেন। উত্তরে হযরত মূসা (আঃ)-এর মা বলেনঃ “এটা আমার পক্ষে। সম্ভব নয়। কেননা, আমার ছেলে মেয়ে ও স্বামী রয়েছে। আমি বরং শিশুটিকে আমার নিজ বাড়ীতেই দুধ পান করাবো, তারপর আপনার নিকট পাঠিয়ে দেবো।” শেষে এটাই মীমাংসিত হয় এবং ফিরাউনের স্ত্রী হযরত আসিয়াও (রাঃ) এতে সম্মত হয়ে যান। সুতরাং হযরত মূসা (আঃ)-এর মাতার ভয় নিরাপত্তায়, দারিদ্র ঐশ্বর্যে, লাঞ্ছনা সম্মানে এবং ক্ষুধা পরিতৃপ্তি বা স্বচ্ছলতায় পরিবর্তিত হয়। দৈনিক তিনি বেতন ও পুরস্কার পেতে থাকলেন এবং পেতে লাগলেন খাদ্য ও পরিধেয় বস্ত্র শাহী দরবার থেকে। আর সবচেয়ে বড় সুযোগ তিনি এই পেলেন যে, নিজের ছেলেকে নিজেরই ক্রোড়ে লালন-পালন করতে থাকলেন। একই রাত্রে বা একই দিনে অথবা এক দিন রাত্রির পরেই পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁর কষ্ট ও বিপদকে সুখ ও আরামে পরিবর্তিত করলেন। এ জন্যেই হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নিজের কাজকর্ম করে এবং তাতে আল্লাহর ভয় ও আমার সুন্নাতের প্রতি লক্ষ্য রাখে তার উপমা হযরত মূসা (আঃ)-এর মায়ের মত। তিনি নিজের ছেলেকেই দুধ পান করাতেন, আবার মজুরীও পেতেন।”আল্লাহর সত্তা অতি পবিত্র। তাঁরই হাতে সমস্ত কাজ। তিনি যা চান তা হয় এবং যা চান না তা কখনো হয় না। অবশ্য এমন প্রতিটি লোকের সাহায্য করেন। যে তার উপর ভরসা করে। তার নির্দেশাবলী পালনকারীর সহায়ক তিনিই। তিনি তাঁর সৎ বান্দাদের বিপদের সময় এগিয়ে আসেন এবং তাদের বিপদ দূর করে দেন। তাদের সংকীর্ণতাকে তিনি প্রশস্ততা ও স্বচ্ছলতায় পরিবর্তিত করেন এবং দুঃখের পরে সুখ দিয়ে থাকেন। কাজেই কতই না মহান তিনি! আমরা তাঁর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছি।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর আমি তাকে তার জননীর নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার দ্বারা তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখ না করে, আর যেন বুঝতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। সে যেন এটা বিশ্বাস করে নেয় যে, সে অবশ্যই নবী ও রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।হযরত মূসা (আঃ)-এর মাতা মনের সুখে স্বীয় সন্তানের লালন-পালনে নিমগ্ন হলেন এবং এমনিভাবে তিনি লালিত-পালিত হলেন যেমনিভাবে একজন উচ্চমানের রাসূলকে লালন-পালন করা উচিত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই আল্লাহ তা'আলার নিপুণতা এবং তাঁর আনুগত্যের শুভ পরিণাম সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখে। তাই তো আল্লাহ পাক বলেনঃ কিন্তু মানুষই এটা জানে না। তারা শুধু বাহ্যিক লাভ-লোকসানের প্রতিই দৃষ্টি দিয়ে থাকে এবং দুনিয়ার প্রতিই আকৃষ্ট হয়ে পরকালকে পরিত্যাগ করে। তারা এটা অনুধাবন করে না যে, যেটা তারা খারাপ মনে করছে সেটাই হয়তো তাদের জন্যে উত্তম। পক্ষান্তরে যেটাকে তারা। ভাল মনে করছে সেটাই হয়তো তাদের জন্যে খারাপ। তারা একটা কাজকে খারাপ মনে করছে, কিন্তু মহা ক্ষমতাবান আল্লাহ কি উপকার তাতে লুক্কায়িত রেখেছেন তার কোন খবরই তারা রাখে না।