Iniciar sesión
Iniciar sesión
Iniciar sesión
Seleccionar idioma

Tafsir: Al-Húyurát 49:13

49:13
يا ايها الناس انا خلقناكم من ذكر وانثى وجعلناكم شعوبا وقبايل لتعارفوا ان اكرمكم عند الله اتقاكم ان الله عليم خبير ١٣
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَـٰكُم مِّن ذَكَرٍۢ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَـٰكُمْ شُعُوبًۭا وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوٓا۟ ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ ٱللَّهِ أَتْقَىٰكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌۭ ١٣
يَٰٓأَيُّهَا
ٱلنَّاسُ
إِنَّا
خَلَقۡنَٰكُم
مِّن
ذَكَرٖ
وَأُنثَىٰ
وَجَعَلۡنَٰكُمۡ
شُعُوبٗا
وَقَبَآئِلَ
لِتَعَارَفُوٓاْۚ
إِنَّ
أَكۡرَمَكُمۡ
عِندَ
ٱللَّهِ
أَتۡقَىٰكُمۡۚ
إِنَّ
ٱللَّهَ
عَلِيمٌ
خَبِيرٞ
١٣
¡Oh, seres humanos! Los he creado a partir de un hombre y de una mujer, y los congregué en pueblos y tribus para que se reconozcan los unos a los otros. El mejor de ustedes ante Dios es el de más piedad[1]. Dios todo lo sabe y está bien informado de lo que hacen. 1
Tafsires
Capas
Lecciones
Reflexiones.
Respuestas
Qiraat
Hadith

আল্লাহ তা'আলা বলছেন যে, তিনি সমস্ত মানুষকে একটি মাত্র প্রাণ হতে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ হযরত আদম (আঃ) হতে। হযরত আদম (আঃ) হতেই তিনি তাঁর স্ত্রী হযরত হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর এ দু’জন হতে তিনি সমস্ত মানুষ ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে দিয়েছেন। (আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দ হতে (আরবী) বা সাধারণ। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, আরব (আরবী)-এর অন্তর্ভুক্ত। তারপর কুরায়েশ, গায়ের কুরায়েশ, এরপর আবার এটা বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত হওয়া এসবগুলো (আরবী)-এর মধ্যে পড়ে। কেউ কেউ বলেন যে, (আরবী) দ্বারা অনারব এবং (আরবী) দ্বারা আরব দলগুলোকে বুঝানো হয়েছে। যেমন বানী ইসরাঈলকে (আরবী) বলা হয়েছে। আমি এসব বিষয় একটি পৃথক ভূমিকায় লিখে দিয়েছি, যেগুলো আমি আবূ উমার ইবনে আবদিল বারর (রঃ)-এর কিতাবুল ইশবাহ' হতে এবং ‘কিতাবুল ফাসদ ওয়াল উমাম ফী মা'রেফাতে আনসাবিল আরাবে ওয়াল আজামে’ হতে সগ্রহ করেছি। এই পবিত্র আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, হযরত আদম (আঃ) যাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, তার দিকে সম্পর্কিত হওয়ার দিক দিয়ে সারা জাহানের মানুষ একই মর্যাদা বিশিষ্ট। এখন যিনি যা কিছু ফযীলত লাভ করেছেন বা করবেন তা হবে দ্বীনি কাজকর্ম এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্যের ভিত্তিতে। রহস্য এটাই যে, এই আয়াতটিকে গীবত হতে বিরত রাখা এবং একে অপরকে অপদস্থ, অপমানিত এবং তুচ্ছ ও ঘৃণিত জ্ঞান করা হতে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত আয়াতের পরে আনয়ন করা হয়েছে যে, সমস্ত মানুষ সৃষ্টি সম্পর্কের দিক দিয়ে সমান। জাতি, গোত্র ইত্যাদি শুধু পারস্পরিক পরিচয়ের জন্যে। যেমন বলা হয়ঃ অমুকের পুত্র অমুক, অমুক গোত্রের লোক। আসলে মানুষ হিসেবে সবাই সমান। হযরত সুফিয়ান সাওরী (রঃ) বলেন যে, হুমায়ের গোত্র তাদের মিত্রদের দিকে সম্পর্কিত হতো এবং হিজাযী আরব নিজেদেরকে নিজেদের গোত্রসমূহের দিকে সম্পর্কযুক্ত করতো।হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা নসবনামা বা বংশ তালিকার জ্ঞান লাভ কর, যাতে তোমরা আত্মীয়তার সম্পর্ক যুক্ত রাখতে পার। আত্মীয়তার সম্পর্ক যুক্ত রাখার কারণে জনগণ তোমাদেরকে মহব্বত করবে এবং তোমাদের ধন-মাল ও জীবন-আয়ুতে বরকত হবে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এই সনদে এ হাদীসটি গারীব)এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আল্লাহ তাআলার নিকট বংশ গরিমা মর্যাদা লাভের কোন কারণ নয়, বরং) আল্লাহ তাআলার নিকট তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী বা আল্লাহভীরু।হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “সর্বাধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি কে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু (সেই সর্বাধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি)।” সাহাবীগণ (রাঃ) বললেনঃ “আমরা আপনাকে এটা জিজ্ঞেস করিনি।” তখন তিনি বললেনঃ “তাহলে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান ছিলেন হযরত ইউসুফ (আঃ)। তিনি নিজে আল্লাহর নবী ছিলেন, আল্লাহর নবীর তিনি পুত্র ছিলেন, তাঁর দাদাও ছিলেন নবী এবং তাঁর দাদার পিতা তো ছিলেন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আঃ)।” তাঁরা পুনরায় বললেনঃ “আমরা আপনাকে এটাও জিজ্ঞেস করিনি।' তিনি বললেনঃ “তাহলে কি তোমরা আমাকে আরবদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছো?” তাঁরা জবাবে বললেনঃ “হ্যাঁ।” তিনি তখন বললেনঃ “অজ্ঞতার যুগে তোমাদের মধ্যে যারা উত্তম ছিল, ইসলামেও তারাই উত্তম হবে যখন তারা দ্বীনের বোধশক্তি লাভ করবে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তোমাদের আকৃতির দিকে দেখেন না এবং তোমাদের ধন-মালের দিকেও দেখেন না, বরং তিনি দেখেন তোমাদের অন্তরের দিকে ও তোমাদের আমলের দিকে।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) ও ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) তাঁকে বলেনঃ “তুমি মনে রেখো যে, তুমি লাল ও কালোর কারণে কোন মর্যাদা রাখে না। হ্যাঁ, তবে তুমি মর্যাদা লাভ করতে পার আল্লাহভীরুতার মাধ্যমে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত খারাশ আল আসরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “মুসলমানরা সবাই পরস্পর ভাই ভাই। কারো উপর কারো কোন ফযীলত নেই, শুধু তাকওয়ার মাধ্যমে ফযীলত রয়েছে।” (এ হাদীসটি হাফিয আবুল কাসেম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা সবাই আদম সন্তান, আর আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি দ্বারা। (মানব) সম্প্রদায় যেন তাদের বাপ-দাদাদের নামের উপর গৌরব প্রকাশ করা হতে বিরত থাকে, নতুবা তারা আল্লাহ তা'আলার নিকট বালুর ঢিবি অথবা আবী পাখি হতেও হালকা হয়ে যাবে।” (এ হাদীসটি আবু বকর আল বাযার (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। তাঁর হাতের ছড়ি দ্বারা তিনি রুকনগুলো চুম্বন করেন। অতঃপর মসজিদে উষ্ট্ৰীটিকে বসাবার মত জায়গা ছিল না বলে জনগণ তাকে হাতে হাতে নামিয়ে নেন এবং উজ্জ্বীটিকে বাতনে সায়েলে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দেন। অতঃপর তিনি স্বীয় উষ্ট্রীর উপর সওয়ার হয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন যাতে আল্লাহ তা'আলার হামদ ও সানা বর্ণনা করার পর তিনি বলেনঃ “এখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদের হতে অজ্ঞতার যুগের উপকরণসমূহ এবং বাপ দাদার নামে গর্ব করার প্রথা দূর করে দিয়েছেন। দুই শ্রেণীর মানুষ রয়েছে। এক শ্রেণীর মানুষ তো নেককার, পরহেযগার এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আর দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ বদকার এবং আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে লাঞ্ছিত ও ঘৃণিত।” অতঃপর তিনি (আরবী) এই আয়াতটি পাঠ করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ “আমি আমার এ কথা বলছি এবং আমি আমার জন্যে ও তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত উকবা ইবনে আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের এই নসবনামা বা বংশ-তালিকা তোমাদের জন্যে কোন ফলদায়ক নয়। তোমরা সবাই সমভাবে হযরত আদম (আঃ)-এরই সন্তান। তোমাদের কারো উপর কারো কোন মর্যাদা নেই। মর্যাদা শুধু তাকওয়ার কারণে রয়েছে। মানুষের মন্দ হওয়ার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, সে হবে কর্কশ ভাষী, কৃপণ ও অকথ্যভাবে উচ্চারণকারী।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-এর রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তোমাদের বংশাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক আল্লাহভীরু।হযরত দুররাহ বিনতে আবি লাহাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা মিম্বরের উপর ছিলেন এমন সময় একটি লোক জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম লোক কে?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বললেনঃ “যে সবচেয়ে বেশী অতিথি সেবক, সর্বাপেক্ষা বেশী পরহেযগার, সবচেয়ে বেশী ভাল কাজের আদেশদাতা, সর্বাপেক্ষা অধিক মন্দ কাজ হতে নিষেধকারী এবং সবচেয়ে বেশী আত্মীয়তার সম্পর্ক মিলিতকারী (সেই সর্বাপেক্ষা উত্তম লোক)।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহকে ভয় করে এরূপ লোক ছাড়া দুনিয়ার কোন জিনিস এবং কোন লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কখনো মুগ্ধ করতো না।” (এ হাদীসটিও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে)মহান আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ তোমাদের সম্পর্কে সবকিছু জানেন এবং তোমাদের সমস্ত কাজ-কর্মের খবর রাখেন।' হিদায়াত লাভের যে যোগ্য তাকে তিনি হিদায়াত দান করে থাকেন এবং যে এর যোগ্য নয় সে সুপথ প্রাপ্ত হয় না। করুণা ও শাস্তি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। ফযীলত বা মর্যাদা তাঁরই হাতে। তিনি যাকে চান তাকে বুযুর্গী দান করে থাকেন। সমস্ত বিষয়ের খবর তিনি রাখেন। কিছুই তার জ্ঞান বহির্ভূত নয়। এই আয়াত এবং উপরে বর্ণিত হাদীসগুলোকে দলীল রূপে গ্রহণ করে আলেমগণ বলেন যে, বিবাহে বংশ ও আভিজাত্য শর্ত নয়। দ্বীন ছাড়া অন্য কোন শর্তই ধর্তব্য নয়। কোন কোন আলেমের মতে বংশ ও আভিজাত্যের বিচার বিবেচনা করাও শর্ত। এঁদের অন্য দলীল রয়েছে, যা ইলমে ফিকাহর কিতাবগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। আর আমরাও এগুলোকে কিতাবুল আহকামে বর্ণনা করেছি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলারই প্রাপ্য। হযরত আবদুর রহমান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, বানু হাশেম গোত্রের একটি লোককে তিনি বলতে শুনেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে আমিই সবচেয়ে বেশী সম্পর্কযুক্ত। তখন আর একটি লোকে বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে তোমার যে সম্পর্ক রয়েছে তদপেক্ষা বেশী সম্পর্ক তার সাথে আমার রয়েছে।” (এটা ইমাম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)