Masuk
Masuk
Masuk
Pilih Bahasa
12:8
اذ قالوا ليوسف واخوه احب الى ابينا منا ونحن عصبة ان ابانا لفي ضلال مبين ٨
إِذْ قَالُوا۟ لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَىٰٓ أَبِينَا مِنَّا وَنَحْنُ عُصْبَةٌ إِنَّ أَبَانَا لَفِى ضَلَـٰلٍۢ مُّبِينٍ ٨
اِذْ
قَالُوْا
لَیُوْسُفُ
وَاَخُوْهُ
اَحَبُّ
اِلٰۤی
اَبِیْنَا
مِنَّا
وَنَحْنُ
عُصْبَةٌ ؕ
اِنَّ
اَبَانَا
لَفِیْ
ضَلٰلٍ
مُّبِیْنِ
۟ۚۖ
Ketika mereka berkata, "Sesungguhnya Yusuf dan saudaranya (Bunyamin) lebih dicintai ayah daripada kita, padahal kita adalah satu golongan (yang kuat). Sungguh, ayah kita dalam kekeliruan yang nyata,
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Refleksi
Jawaban
Qiraat
Hadits
Anda sedang membaca tafsir untuk kelompok ayat dari 12:7 hingga 12:10

৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেন যে, ইউসুফ (আঃ) ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। হযরত ইউসুফের (আঃ) একটি মাত্র সহোদর ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল বিনইয়ামীন। অন্যান্য ভাইগুলি ছিলেন তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইগুলি পরস্পর বলাবলি করেনঃ “আমাদের পিতা এ দু'ভাইকে আমাদের অপেক্ষা বেশি ভালবাসেন। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা একটা দল রয়েছি, অথচ তিনি আমাদের উপর তাদের দুজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে এটা তাঁর স্পষ্ট ভুলই বটে।” এটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের নুবওয়াতের উপর প্রকৃতপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ নেই। আর এই আয়াতের বর্ণনা ধারা তো এর বিপরীত। কোন কোন লোক বলেছেন যে, এই ঘটনার পর তাঁরা সবাই নুবওয়াত লাভ করেছিলেন। কিন্তু এটাও প্রমাণের মুখাপেক্ষী। তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে শুধু নিম্নের আয়াতটি পেশ করেছেনঃ (আরবি)তাঁরা বলতে চান যে, এই আয়াতে বলা হয়েছেঃ ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর (আরবি) বা সন্তানদের প্রতি ওয়াহী নাযিল করা হয়েছিল। এটা কিন্তু সম্ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা, বণী ইসরাঈলের বংশ পরস্পরকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। যেমন আরবকে (আরবি) এবং আজমকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই আয়াতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের (আরবি) এর উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তাঁদেরকে এরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বলার কারণ এই যে, তাঁরা অনেক ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক (আরবি) হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মধ্যকার একজনের নসল বা বংশ ছিলেন। অতএব, এর কোন প্রমাণ নেই যে, আল্লাহ তাআ’লা বিশেষভাবে ঐ ভাইদেরকে নুবওয়াত দান করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা একে অপরকে বলেনঃ ‘এক কাজ করা যাক! তা হলো এই যে, ইউসুফের (আঃ) সাথে পিতার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সে-ই হচ্ছে আমাদের পথের কাঁটা। সে যদি না থাকে তবে পিতার মুহাব্বত শুধু আমাদের উপরই থাকবে। এখন তাকে পিতার নিকট হতে সরাবার দু'টি পন্থা আছে। হয় তাকে মেরেই ফেলতে হবে, না হয় কোন দূর দূরান্তে তাকে ফেলে আসতে হবে। এরূপ করলেই আমরা পিতার প্রিয় ভাজন হতে পারবো। এরপর আমরা তাওবা’ করবো, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাকের উক্তি: (আরবি) (তাদের একজন বললো) কাতাদা’ (রঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর নাম ছিল রাওভীল। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইয়াহুযা। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন শামউনুস সাফা। তিনি বললেনঃ “তোমরা ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করো না। এটা অন্যায় হবে। শুধু শত্রুতার বশবর্তী হয়ে একজন নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা উচিত হবে না।” এর মধ্যেও মহান আল্লাহর নিপুণতা নিহিত ছিল। তাঁর এটার ইচ্ছাই ছিল না। তাঁদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করার ক্ষমতাই ছিল না। আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছা তো এটাই ছিল যে, তিনি তাকে নবী করবেন এবং তাঁর ভাইদেরকে তার সামনে বিনীত অবস্থায় দাঁড় করাবেন। সুতরাং রাওভীলের পরামর্শে তাঁদের মন নরম হয়ে গেল এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, ইউসুফকে (আঃ) কোন অব্যবহৃত কূপে নিক্ষেপ করতে হবে।কাতাদা’ (রঃ) বলেন যে, ওটা বায়তুল মুকাদ্দাসের কূপ ছিল। তাঁদের এ ধারণা হলো যে, সম্ভবতঃ কোন মুসাফির সেখান দিয়ে গমনের সময় তাঁকে কূপ থেকে উঠিয়ে নেবে এবং নিজের কাফেলার কাছে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় তিনি এবং কোথায় তারা। সুতরাং তাকে হত্যা না করেই যদি কাজ সফল হয়ে যায় তবে হত্যা করার কি প্রয়োজন? মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইয়াসার (রঃ) বলেন যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ বড় অপরাধমূলক কাজে একমত হয়েছিলেন। তা হচ্ছেঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করা, ছোট ভাই এর প্রতি অত্যাচার করা, নিরপরাধ ও নিস্পাপ বালকের ক্ষতি সাধন করা, অচল বৃদ্ধকে কষ্ট দেয়া, হকদারের হক নষ্ঠ করা, হুরমত ও ফযীলতের বিপরীত করা, মর্যাদাবানের মর্যাদা হানি করা, পিতাকে দুঃখ দেয়, তাঁর নিকট থেকে তাঁর কলিজার টুকরা ও চোখের মণিকে চিরতরে সরিয়ে দেয়া, বৃদ্ধপিতা ও আল্লাহ তাআ’লার প্রিয় নবীকে বৃদ্ধ বয়সে অসহনীয় বিপদে পৌছানো, ঐ অবুঝ ছেলেকে দয়ালু পিতার স্নেহপূর্ণ দৃষ্টির অন্তরালে নিয়ে যাওয়া, আল্লাহর দু’জন নবীকে দুঃখ দেয়া, প্রেমিক ও প্রেমাস্পদকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, সুখময় জীবনকে দুঃখ ভারাক্রান্ত করে তোলা, ফুলের চেয়েও নরম অবলা শিশুকে মমতাময় বৃদ্ধ পিতার নরম ও গরম কোল হতে চিরতরে পৃথক করে দেয়া ইত্যাদি। আল্লাহ তাঁদেরকে ক্ষমা করুন। তিনি বড়ই করুনাময় ও দয়ালু। বাস্তবেই তারা (শয়তানের চক্রান্তে পড়ে) কতই না বড় অপরাধমূলক কাজের জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিলেন!